ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী (রহঃ)
সঊদী আরব গমন :
মাওলানা আহমাদ দেহলভী মসজিদে নববীর পার্শ্বে ‘দারুল হাদীছ’ নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিরোধীরা সরকারের কাছে এ মাদরাসার ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করার কারণে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষ মাদরাসাটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আহমাদ দেহলভী ‘মারকাযী জমঈয়তে আহলেহাদীছ হিন্দ’ (তখন জমঈয়তের নাম ছিল ‘অল ইন্ডিয়া আহলেহাদীছ কনফারেন্স’। ১৯৭০ সালের পর জমঈয়তের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মারকাযী জমঈয়তে আহলেহাদীছ হিন্দ’। বর্তমানে দিল্লীতে ৪১১৬ উর্দূ বাজার ‘আহলেহাদীছ মনযিল’-এ জমঈয়তের নিজস্ব ভবনে কেন্দ্রীয় অফিস অবস্থিত। পাক্ষিক ‘তারজুমান’ এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখপত্র হিসাবে প্রকাশিত হচ্ছে। দ্র. আহলেহাদীছ আন্দোলন, পৃঃ ৩৬৮-৬৯; আরো বিস্তারিত জানার জন্য লগ অন করুন :www. ahlehadees.orgই-মেইল : Jamiatahlehadeeshind@ hotmail.com.) নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে অবগত করান এবং মাদরাসাটি পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করার অনুরোধ করেন। জমঈয়ত নেতৃবৃন্দ মাদরাসাটি পুনরায় খোলার ব্যাপারে আলোচনার জন্য শায়খ খলীল আরব বিন মুহাম্মাদ আরব ও ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরীকে প্রতিনিধি হিসাবে তৎকালীন সঊদী বাদশাহ আব্দুল আযীয (রহঃ)-এর কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ১৫ আগষ্ট ১৯৪৭/২২ শা‘বান ১৩৬৬ হিজরীতে তাঁরা সঊদী আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। ১৬ রামাযান রিয়াদে পৌঁছেন। সঊদী সরকারের পক্ষ থেকে জমঈয়তের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানো হয় এবং সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে তাদের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়।
১৬ রামাযান প্রতিনিধি দলটি সঊদী বাদশাহর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান। বাদশাহ তাদের সঊদী আরব আগমনের কারণ জানতে চান। শায়খ খলীল আরব তাদের সঊদী আসার উদ্দেশ্য বাদশাহকে অবগত করালে বাদশাহ বলেন, মাদরাসার বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তূপ জমা পড়েছে। অতঃপর বাদশাহ তৎক্ষণাৎ তায়েফের তদানীন্তন আমীর (পরবর্তীতে বাদশাহ) স্বীয় সন্তান ফায়ছালের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। মাদরাসা সংক্রান্ত ফাইল তার কাছে ছিল। বাদশাহ তাকে এ সংক্রান্ত ফাইল দ্রুত পাঠাতে বলেন। অবশেষে বাদশাহ উক্ত মাদরাসাটি পুনরায় খুলে দেয়ার ব্যাপারে সম্মত হন।