নফল ছিয়াম : পরকালীন মুক্তির পাথেয়
ভূমিকা :
ইসলামী শরী‘আতে যেকোন নফল ইবাদত তাক্বওয়ার স্তর নির্ধারণ করে। যার নফল ইবাদত যত বেশী, তার তাক্বওয়ার স্তর তত উন্নত। নফল ইবাদতের মধ্যে নফল ছিয়াম অন্যতম। সারা বছরের বিভিন্ন সময়ে নফল ছিয়াম রাখার সুযোগ রয়েছে। এটি বিভিন্ন সময়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে একেকটির ফযীলতও একেক ধরনের। রকমারী ফযীলতের ডালি ভরা নফল ছিয়ামের আধিপত্যও তাই অনেকাংশে বেশী। আলোচ্য প্রবন্ধে ছিয়ামের ফযীলত, বিভিন্ন প্রকারের নফল ছিয়াম প্রভৃতি প্রসঙ্গে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করা হ’ল।
ছিয়ামের ফযীলত :
ছিয়াম আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ ইবাদত। যার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে প্রদান করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। আর দ্বিতীয় কোন ইবাদত নেই যার ব্যাপারে অনুরূপ বলা হয়েছে। হাদীছে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, يَتْرُكُ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِى اَلصِّيَامُ لِىْ وَأَنَا أَجْزِىْ بِهِ‘সে আমার জন্য পানাহার ও কামাচার পরিত্যাগ করে। ছিয়াম আমার জন্য, আমিই উহার প্রতিদান দিব’। (বঙ্গানুবাদ বুখারী (ঢাকা : তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ফেব্রুয়ারী ২০০৭), হা/১৮৯৪, ২/৩২৮ পৃঃ।) ক্বিয়ামতের দিন ছায়েমদেরকে ‘রাইয়্যান’ নামক বিশেষ গেট দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। তাদের প্রবেশের পরই গেট বন্ধ করে দেয়া হবে। যেন এ গেট দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে না পারে। (বঙ্গানুবাদ বুখারী, হা/১৮৯৬, ২/৩২৯ পৃঃ।)
অন্য একটি হাদীছে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি ছিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন হ’তে ৭০ বছরের পথ দূরে রাখবেন’। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১৯৫৫, ৪/২৫৩।) অন্য বর্ণনায় ১০০ বছরের পথ দূরে রাখবেন বলা হয়েছে। (সিলসিলা ছহীহাহ হা/২২৬৭, ২৫৬৫।) অপর হাদীছের বর্ণনা মতে জাহান্নাম ও তার মাঝে এমন একটি গর্ত খনন করবেন যার ব্যবধান হবে আসমান ও যমীনের ব্যবধানের ন্যায়। (সিলসিলা ছহীহা হা/২২৬৮/৬।) উল্লেখিত হাদীছগুলোতে ছিয়ামের গুরুত্ব সহজেই ফুটে ওঠেছে। আমাদের কর্তব্য হবে যথাসম্ভব নফল ছিয়াম পালনের মাধ্যমে উক্ত মর্যাদার ধারক হওয়া। নিম্নে বিভিন্ন ধরনের নফল ছিয়ামের আলোচনা পেশ করা হ’ল।