Collected প্রতিশোধ

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
446
Messages
7,153
Reaction score
5,301
Points
4,013
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
প্রতিশোধ

নাহিদ হাসান নিবিড়






'তোমার চোখ এত খারাপ কেন?'
.
- চোখ আবার কী করল? কোনো মেয়ের দিকে তো তাকাইনি। সোজা গিয়েছি সোজা ফিরে এসেছি, কারো দিকেই তাকাইনি। একজনের দিকে অবশ্য তাকিয়েছিলাম।
শিউলি সঙ্গে সঙ্গে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল, 'কার সঙ্গে?'
আমি বললাম, 'ফিরোজা খালাম্মা। বাজার ভর্তি ব্যাগ হাতে দেখেও মহিলা সেই যে কথা বলতে শুরু করেছেন, কেমন আছো? তোমার আব্বা-আম্মার শরীর কেমন? তোমার বউটার কী খবর? কথা আর শেষ হয় না।'
শিউলি প্রসঙ্গ বদলে বলল, 'বাজার থেকে কিসব কিনে আনছো এইগুলা?'
- কেন কী হয়েছে?
- সবই তো পচা। আলু পচা, বেগুন পচা, পটল পচা, শাক পর্যন্ত পচা।
.
চেঁচামেচি শুনে আম্মা এসে রান্নাঘরে ঢুকে শিউলিকে জিজ্ঞাসা করল, 'কী হইছে বৌমা?'
শিউলি বলল, 'মা দেখেন না আপনার ছেলে কিসব বাজার করে নিয়ে এসেছে।'
আম্মা গভীরভাবে সবজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বললেন, 'তোর আব্বার আর কোনো গুণ থাকুক বা নাই থাকুক, বাজারটা তিনি খুব ভালো করেন। তোর তো সেটাও নাইরে! মানুষ একটু দেখে-শুনে বাজার করে না? এত বড় হইছিস এখনও বাজার করতে শিখলি না।'
.
মেজাজটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল, প্রথমত আবুল ভাইয়ের ওপর। তাকে নিয়েই বাজারে গিয়েছিলাম। তিনি বেছে বেছে সব পচা সবজি পাল্লায় তুলেছেন। কিছুদিন আগে তার কাছ থেকে একশ টাকা ধার নিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই টাকা ফেরত দেইনি বলে প্রতিশোধ নিলেন। দ্বিতীয়ত নিজের ওপর—কেন আবুল ভাইকে বিশ্বাস করলাম! একবারও সবজির দিকে তাকালাম না কেন! আবুল ভাইকে আর ছাড়ছি না। সুযোগ মতো পেয়ে নেই।
.
ছোট মামার সঙ্গে কয়েকদিন থেকে ঠিকমত কথা-বার্তা হচ্ছে না। সকালে যখন অফিসে যাই তখন সে নাক ডেকে ঘুমায়, রাতে যখন বাসায় ফিরি তখন সে বাসায় থাকে না। খাবার টেবিলে একবারমাত্র সামনা-সামনি দেখা হয়, তবে কথা-বার্তা তেমন একটা হয় না—ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে দ্রুত উঠতে হবে নইলে ট্রেন মিস হয়ে যাবে, এমন তাড়াহুড়ো করে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সে আবারও বাইরে চলে যায়। মামার গতিবিধি বোঝা দুর্বোধ্য ব্যাপার, কখন কি করে বসে ঠিক নাই।
.
শিউলিকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'শিউলি ছোট মামা কোথায়?'
- ঘরে বোধহয়।
- বাসায় কী করে সারাদিন? তাকে তো দেখাই যায় না। কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?
- তা তো জানি না, তবে কিছু নিয়ে বোধহয় চিন্তার মধ্যে আছেন।
- কী করে বুঝলে?
- সারাদিন বাইরে যান আর আসেন। বাসায় যতক্ষণ থাকেন ততক্ষণই দরজা বন্ধ করে রাখেন। গতকাল কী হলো জানো?
- কী হলো?
- আমি চা নিয়ে গিয়ে মামার ঘরের দরজা ধাক্কালাম, বললাম, মামা, চা বানিয়ে এনেছি—দরজাটা খোলেন। মামা কী বলল জানো?
- কী বলল?
শিউলি হাসতে হাসতে বলল, 'মামা বলল, আপা এখন চা খাব না।'
শিউলি শব্দ করে হেসে উঠল। তার সঙ্গে আমিও হেসে ফেললাম।
.
শিউলির কণ্ঠস্বর অতি মধুর। সে যখন কথা বলে মনে হয় আমার সামনে রবীন্দ্র সংগীত বাজছে। তবে মাঝে মধ্যে রাগ সংগীতও শোনার প্রয়োজন আছে, নইলে উভয়ের পার্থক্য বোঝা যাবে কী করে! শিউলিকে রাগানোর জন্য বললাম, 'তোমার গলা শুনে তো মাঝে মধ্যে আমিই বিভ্রান্ত হয়ে যাই যে—কে কথা বলছে? আম্মা নাকি তুমি।'
শিউলি দাঁত কিড়মিড় করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, 'কী বললা?'
আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, 'না মানে তোমার কণ্ঠস্বর তো মুরব্বিদের মতো। আমিই যেহেতু প্রতিদিন তোমার কণ্ঠস্বর শুনেও দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ে যাই, সেখানে মামা কতদিন পর পর আসেন, বিভ্রান্ত হওয়াটাই তো স্বাভাবিক।'
.
শিউলির দুই চোখে যেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করল। রান্নাঘরে থাকাটা আর নিরাপদ হবে না। আমি দ্রুত রান্নাঘর ত্যাগ করলাম।
.
ছোট মামার এমন আচরণের কারণ কী! এত ঘনঘন বাইরে যাওয়া-আসারই বা কারণ কী? বিষয়টা জানতে হবে। রান্নাঘর থেকে বের হয়ে আমি মামার ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে বললাম, 'মামা দরজা খোলো।'
মামার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। কয়েকবার দরজা ধাক্কানোর পর মামা খুবই বিরক্ত গলায় বলল, 'বিরক্ত করিস না, খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করছি, মনযোগ প্রয়োজন। পরে আয়।'
.
মামা বোধহয় জানে না, দরজার চাবি একটা না, কয়েকটা থাকে। আমি আলমিরা থেকে চাবির গোছা নিয়ে এসে দরজা খুললাম। আমাকে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দেখে মামা হতভম্ব হয়ে গেল। আমিও অবাক হলাম। পুরো ঘর দুমড়ানো-মুচরানো কাগজে ভরে আছে। মনে হচ্ছে মামা চিঠি লিখছিল। আমাকে দেখে টেবিলের ওপর থেকে ডায়েরি লুকাল৷ এরপর দ্রুত মেঝের কাগজ তুলতে শুরু করল।
.
আমি মামার কর্মকাণ্ড দেখে বললাম, 'মামা, কাউকে চিঠি লিখছিলে নাকি?'
মামা লাজুক মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, 'আরে নাহ! কী যে বলিস না! কবিতা লিখছিলাম।'
- তুমি কবিতাও লেখো? জানতাম না তো, কী লিখেছ দেখি!
.
মেঝে থেকে আমি একটা কাগজ তুলে ভাঁজ খুলতে যাচ্ছিলাম, মামা এসে ছোঁ মেরে কাগজটা নিয়ে গেল। এর মানে হচ্ছে কবিতা-টবিতা না সে অন্য কিছু লিখছিল। কী লিখতে পারে মামা! আমার মনে হচ্ছে, প্রেমের চিঠি।
.
মামার ভাব-ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে দুনিয়া এসপার-ওসপার হয়ে গেলেও কিছুতেই সে একটা কাগজও পড়তে দেবে না। মামা আমার সমবয়সী হলেও এখনো বিয়েশাদি করেনি। আমি একটু আগেই বিয়ে করে ফেলেছি। আমরা ছোট থেকে বন্ধুর মতোই বড় হয়েছি। তবে মামা এমন লুকানোর চেষ্টা করছে কেন! এত লজ্জার কি আছে!
.
আমি দ্রুত মেঝে থেকে দুইটা কাগজ তুলে নিয়ে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে এলাম। মামা আমার পেছনে ছুটতে শুরু করল। আমি আমার ঘরে ঢুকে দরজা লক করে দিলাম। মামা সজোরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে নিচু গলায় বলল, 'নিহাল ভালো হবে না কিন্তু।'
.
আমি কোনো সাড়াশব্দ না করে দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে একটা কাগজের ভাঁজ খুললাম। যা সন্দেহ করেছিলাম ঠিক তাই। মামা কোনো কবিতা লিখছিল না, লিখছিল চিঠি—প্রেমের চিঠি।

প্রথম চিঠি
প্রিয় নাম না জানা অপরিচিতা,

পত্রের শুরুতেই একগুচ্ছ লাল গোলাপের শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন। কেমন আছেন? (আর কিছু লেখা নেই)

দ্বিতীয় চিঠি
প্রিয় চাঁদ,
পত্রের শুরুতেই আমার সালাম গ্রহণ করবেন—আসসালামু আলাইকুম। আমাকে আপনার চেনার কথা নয় কিন্তু আমি আপনাকে দীর্ঘদিন থেকে চিনি। (এরপরের অংশে আর কিছু লেখেনি)
.
চিঠিগুলো লিখে মামা ফেলে দিয়েছে, এরমানে হচ্ছে সে যা-ই লিখছে তা-ই তার কাছে যথার্থ বলে মনে হচ্ছে না। এর মানে সে চিঠিটা লেখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নশীল। তার মানে এবার সত্যিই কাউকে মামার মনে ধরেছে, কিন্তু যাকে চিঠি লিখছিল সেই মানুষটা কে? কে সেই সৌভাগ্যবান যিনি আমার মামাকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে?
.
চিঠি পকেটে রেখে দরজা খুললাম। মামা আমার দিকে রাগচোখে তাকিয়ে রইল কিন্তু কিছু বলল না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'মামা—মামিটা কে?'
মামা চিন্তিতমুখে বলল, 'মামি! মানে কী?'
- যাকে চিঠি লিখছিলে।
- আরে ধুর! ওসব এমনেই লিখেছি।
- তাহলে শিউলিকে পড়তে দিলাম? দেখি তার প্রতিক্রিয়া কেমন হয়?
- দেখতো! শিউলিকে কেন দিবি? পাগল হয়ে গেছিস তুই?
- তুমি তো আমাকে নিজে থেকে কিছুই বলবা না, ওকেই দেই?
- আচ্ছা যা তোকে বলব কিন্তু এখন না, পরে। কাগজগুলো ফিরিয়ে দে।
- কেন? ফেরত দেব কেন? ফ্রিতে আমি কিছু দেই না। পাঁচশো টাকা দাও, নইলে ফেরত পাবে না
- ঘুষ চাচ্ছিস? তুই খারাপ রে, আপন মামার কাছ থেকেও ঘুষ নিতে চাস।
- মামা ঘুষ বলো না, ঘুষ নেওয়া হারাম। বলো বকশিস।
.
পকেট থেকে টাকা বের করে আমাকে দিয়ে মামা বলল, 'এই নে তোর বকশিস। পঞ্চাশ টাকা কম আছে।'
.
মামার চিঠি লেখা দেখে, মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। আবুল ভাইকে চিঠি পাঠিয়ে শিক্ষা দেওয়ার বুদ্ধি। আমি ঘরে ঢুকে কাগজ-কলম নিয়ে লিখতে বসলাম,

'প্রিয় পুরুষ,
পত্রের প্রথমেই আমার বুকভরা ভালোবাসা গ্রহণ করবে। তোমাকে ভীষণ মনে পড়ছে। অনেকদিন পর আজ তোমার সঙ্গে দেখা হলো। কতবছর পর টং দোকানে বসে চা খেলাম! কিছুতেই তোমাকে যেতে দিতে ইচ্ছা করছিল না, কিন্তু তোমার দজ্জাল বউ দেরি হলেই তো তোমাকে সন্দেহ করবে, নির্যাতন করবে, আমি তা চাই না। আবার কবে দেখা হবে আমাদের?
ভালোবাসি।
— ইতি শাহনাজ।'
.
সন্ধ্যাবেলা কোরবানের চায়ের দোকানে আবুল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। আমি আবুল ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসে ধারের একশো টাকা তাকে ফেরত দিলাম। টাকা পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি। হয়ত ভেবেছিলেন আমি তাকে টাকাটা আর ফেরত দেব না।
.
গল্প করতে করতে এক ফাঁকে চিঠিটা সাবধানতার সঙ্গে আবুল ভাইয়ের পকেটে ঢুকিয়ে দিলাম। এর কিছু সময় পর আবুল ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি বাড়ি ফিরে এলাম।
.
রাত দশটার দিকে আবুল ভাই ফোন করে বললেন, 'ভাই, তাড়াতাড়ি নিচে আসো।'
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'কেন ভাই? কী হইছে?'
- নিচে আসো তাড়াতাড়ি। ভীষণ ঝামেলার মধ্যে পড়েছি ভাই।
- ঝামেলাটা কী? সারাংশ বলেন।
- আরে ভাই, তোমার ভাবী আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। তাড়াতাড়ি আসো।
.
লাইন কেটে দিয়ে আরো কিছুক্ষণ হাসলাম। হাসতে হাসতে চোখ থেকে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ল। চোখ-মুখ ধুয়ে বাড়ির নিচে চলে গেলাম।
.
আবুল ভাই বাড়ির মূল ফটকের সামনে পায়চারি করছিলেন। আমাকে দেখে সামনে এগিয়ে এসে বললেন,
'এতক্ষণে এলে! সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি।'
- একটু দেরি হয়ে গেল ভাই, দুঃখিত। বলেন কী হইছে?'
- তোমার ভাবী আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে।
- বলেন কি! কেন বের করে দিল?
- আর বইলো না ভাই, কোন মেয়ের চিঠি নাকি আমার পকেটে পাওয়া গেছে।
- সর্বনাশ!
- চিঠি যে লিখেছে তার নাম শাহনাজ। এই নামের কাউকে আমি চিনিই না। সে আবার আমার নামও লিখেছে।
- বলেন কি ভাই!
- আমি কি ভাবছি জানো?"
- কী ভাই?
- চিঠি যে লিখেছে তার উদ্দেশ্য যাই হোক, চিঠিটা আমার পকেটে এলো কীভাবে!
- খুবই চিন্তার বিষয় ভাই। কীভাবে এলো!
- আমার তো এমন কোনো শত্রু নাই ভাই। এখন কী করি বলো তো? আজকে সারারাত তো মনে হচ্ছে বাসায় ঢুকতেই পারব না। থাকব কোথায়?'
- ভাই আপনি একটু দাঁড়ান, এক নম্বর চেপেছে।
- তাড়াতাড়ি আইসো ভাই।
.
সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হাসতে হাসতে মনে হচ্ছে পেট ফেটে যাবে। এত আনন্দ কেন প্রতিশোধ নেওয়ায়!
.
আমি বাসায় ফিরে ফোন বন্ধ করে সোজা গিয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। আবুল ভাই নিশ্চয়ই আরো ঘণ্টাখানেক বাড়ির সামনে পায়চারি করে আমাকে না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে যাবেন, এরপর ভাবীর দৌড়ানি খাবেন।
.
ঘণ্টাখানেক পর আবুল ভাইকে কল করলাম। আবুল ভাই ফোন ধরেই রেগে বললেন, 'তোমার কাছে এটা আশা করিনি নিহাল। তুমি উপরে গিয়ে ফোনটা বন্ধ করে রেখেছ। আমার এই বিপদের দিনে তুমি এই কাজটা করতে পারলা?'
আমি বললাম, 'আরে ভাই, ফোনে সমস্যা হয়েছিল। কিছুতেই অন হচ্ছিল না। অন হতেই আপনাকে কল করলাম। কোথায় আছেন?'
- বাসার দরজার সামনে, সিঁড়িতে বসে আছি।
- আহারে! ভাবী কখন জানি লাঠি নিয়ে আসবেন!
- মশকরা কোরো না তো।
- দরজা নক করেছেন?
- নাহ, তুমি আমাকে বাজে বুদ্ধি দিয়ো না তো। দরজায় নক করলে আবার বের করে দেবে।
- আচ্ছা, তাহলে আপনি ওখানেই অপেক্ষা করেন। আমি একটা ব্যবস্থা করছি।
- কী করবে?
- ভাবীকে কল দিয়ে ম্যানেজ করছি।
- ম্যানেজ করবা, নাকি উল্টাপাল্টা কিছু বলে আরো রাগিয়ে দিবা? দেখো ভাই, এত রাতে নতুন করে আর ঝামেলা কইরো না।
- আচ্ছা রাখেন, বিষয়টা দেখছি।
.
আবুল ভাইয়ের ওপর যথেষ্ট প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে। এবারের জন্য মাফ করে দিলাম। তাকে ঘরে ঢোকার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি ভাবীর নম্বরে ফোন করলাম। ভাবী ফোন ধরতেই লম্বা একটা সালাম দিলাম। সালামের উত্তর নিয়ে ভাবী বলল, 'কী ব্যাপার! এত রাতে কল দিলি, কী চাস?'
আমি বললাম, 'ভাইকে নাকি বের করে দিয়েছ?'
- বের করার মতো কাজ করলে তো বের করবই।
- না মানে, শুনলাম এক মেয়ে চিঠি লিখেছে।
- আবুল তোকে বলেছে?
- হ্যাঁ, আসলে হইছে কি ভাবী, ওই কাগজটায় চায়ের দোকানদার কোরবানকে চেনো না? কোরবান চানাচুর দিয়েছিল। আমি ওইটা দুষ্টুমি করে আবুল ভাইয়ের পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েছি।
ভাবী কিছুক্ষণ চুপ থাকল, এরপর বলল, 'এ আমি কী করলাম! আমি কিছু যাচাই না করেই ওকে বের করে দিয়েছি, বেচারা না জানি কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে! তোকে আমি পেয়ে নেই নিহাল, তুই একটা বানরের হাড্ডি, বদমায়েশ।'
.
কিছুক্ষণ পর আবুল ভাইয়ের মেসেজ। তিনি লিখে পাঠিয়েছেন, 'তুমি জাদু জানো ভাই। কল করে তোমার ভাবীকে কী বলেছো কে জানে! সে আমাকে আজ দুই পিস মিষ্টি খেতে দিয়েছে, যেখানে সপ্তাহেও এক পিস দেয় না। তোমাকে ধন্যবাদ ভাই।'


সমাপ্ত
 
Back
Top