Collected পাহারাদার

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
443
Messages
6,994
Reaction score
5,011
Points
4,013
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
পাহারাদার

(অন্তর্জাল হতে সংগৃহীত)







সাইটের কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হলো। রাত ১২.৩০
মোড়ের দোকান টা খোলা।
এক কাপ চা খেলে মন্দ হয় না।
বেশ জাকিয়ে শীত পড়েছে,আমি রাস্তার পাশের টং দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি।

হাউজিং এর এক সিকিউরিটি গার্ড তীব্র ভাবে বাশি বাজাচ্ছে।
বাশি বাজাতে বাজাতে দোকানের সামনে এলো। বুক পকেটে নেম প্লেট লাগানো।
"আলমগির"

দোকানী কে খুব ব্যাস্ত ভঙ্গিতে বল্লো...
"ভাই সাব, কড়া পাত্তি মাইরা চা দেন"

আমি আলমগির কে বললাম,
"ভাই,
এতো জোরে জোরে বাশি বাজাচ্ছেন ক্যান?
এখনো তো মানুষ জন চলাফেরা করতাসে,
চোর ডাকাত তো আরো পরে আসার কথা"

আলমগির হেসে ফেল্লো,
বললো..
"বস,
বাশি বাজাইতে ভাল্লাগে, কথা কওনের কেউ নাই, বাশির লগে কথা কই"

আমার বেশ ভালো লাগলো। বেচারা সারা রাত হেটে হেটে ডিউটি দেয়, আমরা এদের পাত্তা ও দেই না।
ঈদ পার্বনে বখশিশ চাইলে মাঝে মাঝে বকা ঝকা ও করি।

আমি উনার সাথে একটু গল্প গুজব করলাম। বেচারা কথা বলার মানুষ পায় না, তাই বেশ আগ্রহ নিয়ে কথা বলছে।

ছিনতাই নিয়ে গল্প শুরু করলো।

"বস,
ছিনতাই কারী দের বেশীর ভাগ আইজ কাল বড় লোকের পোলা।
গরীব ছিনতাইকারী গো একটু মায়া মমতা থাকে। বড়লুক ছিনতাইকারী দের কুনু মায়া নাই। এরা পিচাশ!"

সে আবার শুরু করলো। তিন দিন আগে রিং রোডে এক রিকশাওয়ালা রে ছিনতাই করতাছিলো তিন পোলা। দামী গাড়ি রিকশার সামনে থামায়া রিকশাওয়ালা রে তিন জন ধরলো।
রিকশাওয়ালা ও ঘাউড়া। ট্যাকা দিবো না।

তিন ডা পুলা সেই কি মাইর দিলো! রিকশাওয়ালা কয়, আমার মাইয়ার বিয়া হইবো, ট্যাকা জমাইতাসি, আমার ট্যাকা নিয়েন না। হের মুখ, ঠোট ফাইট্টা রক্ত বাইর হইতাসে।

এক চ্যাংড়া পোলা কয়, তর মাইয়া রে লইয়া আয়, আমরা তিন জন বিয়া করুম আইজ রাইতের লিগা!

শুইনা আমি আর পারলাম না। হেগোর সামনে বাশি বাজাইয়া গেলাম। আমারে থাপ্পড় মরলো।
হেগোর কাছে অনুরোধ ধরলাম।
কইলাম, "গরীব মানুষ, স্যারেরা, ছাইড়া দেন।"

আমার কাছে এক হাজার ট্যাকা আছে, লইয়া লন"

হেরা আমার ট্যাকা নিলো। আমি রিকশাওয়ালা রে জড়াইয়া রাখসি যেনো আর না মারতে পারে। পিশাচ গুলা হের ট্যাকা দিলো না। আবারো আমাগো দুই জন রে লাত্থি মাইরা ভুস ভুস কইরা গাড়ি চালাইয়া চইলা গেলো।

আমি কিছুক্ষন চুপ রইলাম। কষ্ট লাগছে। আমরা শিক্ষিত হয়ে এ কী শিক্ষায় দীক্ষিত হচ্ছি!

আলমগির তৃপ্তি নিয়ে চা খাচ্ছে আর হাসছে।

আমি বললাম, "আপনি ভালো মানুষ, নিজের জীবনের পরোয়া না করে ওই রিকশাওয়ালা কে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। এ অনেক বড় ব্যাপার।"

আলমগিরের হাসি আরো প্রসারিত হলো।

"ভাইজান, আমি কিন্তু অই দিন হারি নাই!!!"

আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম।

"ওই জানোয়ার গুলা চইলা যাবার পর আমার কোমরের বটুয়া থিকা ২ হাজার ট্যাকা বাইর কইরা ওই চাচা রে দিয়া দিলাম। আমার বেতনের ট্যাকা। গ্রামে পাঠানির লিগা রাখসিলাম। চাচা মিয়া রে কইলাম,
টাকা জমান ভালো করে
"মাইয়ার বিয়া দিয়েন ঠিক মতো"

চাচা মিয়া হাউমাউ কইরা সেই কী কান্দন! আমার চউক্ষে পানি আইসা পড়সিলো।

আমি অপলক দৃষ্টি তে আলমগিরের দিকে তাকিয়ে আছি। বোকা লোক টা তৃপ্তি নিয়ে চা খাচ্ছে। শীতের দমকে হালকা হালকা কাঁপছে।

"বস, আমার নিজের অবস্থা খুব খারাপ, জানি না মাস পার হইবো কেমনে, কিন্তু সেই দিন চাচা মিয়ার আনন্দ দেইখা বুক টা ভইরা গেসিলো। প্যাটের খিদা সইজ্য করন যায়, চোউক্ষের সামনে কারোর কষ্ট দেখলে সইজ্য করন কঠিন।"

আলমগির ছোট ছোট টানে মেরিস সিগারেট খাচ্ছে। তার চোখ ভেজা।

শীত বাড়ছে... দোকানদার দোকান বন্ধ করবে। আলমগির টাকা মিটিয়ে হন হন করে.. হাটা দিলো।
হাঁটতে হাঁটতে এক সময় সে কুয়াশার সমুদ্রে মিলিয়ে গেলো...কিন্তু তার দ্রীপ্ত বাশির আওয়াজ কানে আসছে।

আমরা ভালো মানুষরা এখন বাসায় যেয়ে ঘুমাবো। আর অস্পৃশ্য আলমগিররা আমাদের সারা রাত পাহারা দেবে।

(সংগৃহীত)
 
Back
Top