ইসলামে ভ্রাতৃত্ব (২য় কিস্তি)
বর্তমান বসুন্ধরা অসংখ্য ধর্মের কোটি কোটি অনুসারীর পদভারে মুখরিত। কিন্তু এমন একটি ধর্মও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কি নৈতিক কি ব্যবহারিক কোন ক্ষেত্রেই মানবীয় ভ্রাতৃত্ববোধ ইসলামের চেয়ে বেশী। বরং ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে মানব জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগে মানবীয় মর্যাদাবোধ ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের বিষয়টি নৈতিক ও ব্যবহারিক প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। যা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (ছাঃ) বর্ণনা করে গেছেন। যেমন-
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهُِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ تَعَالَىْ يَقُوْلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَا ابْنَ آدَمَ! مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِىْ. قَالَ: يَا رَبِّ! كَيْفَ أَعُوْدُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِيْنَ؟ قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِىْ فُلاَنًا مَّرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَّهُ لَوَجَدْتَّنِىْ عِنْدَهُ؟ يَا ابْنَ آدَمَ! اِسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمْنِىْ. قَالَ: يَارَبِّ! كَيْفَ أُطْعِمُكَ وَ أَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِيْنَ؟ قَالَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّهُ اسْتَطْعَمَكَ عَبْدِىْ فُلاَنٌ فَلَمْ تُطْعِمْهُ؟ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتَّ ذَلِكَ عِنْدِىْ؟ يَا ابْنَ آدَمَ! اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تُسْقِنِىْ. قَالَ: يَا رَبِّ! كَيْفَ أَسْقِيْكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِيْنَ؟ قَالَ: اسْتَسْقَاكَ عَبْدِىْ فُلاَنٌ فَلَمْ تُسْقِهِ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ سَقَيْتَهُ وَجَدْتَّ ذَلِكَ عِنْدِىْ-
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি পীড়িত হয়েছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি কিভাবে তোমাকে দেখতে আসব, অথচ তুমিই সমস্ত জগতের প্রভু? আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা পীড়িত হয়েছিল? কিন্তু তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে নিশ্চয়ই তার নিকট আমাকে পেতে? হে আদম সন্তান! আমি তোমার নিকট খানা চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খানা দাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রভু! আমি তোমাকে কিরূপে খানা দিব, অথচ তুমিই সমস্ত জগতের প্রতিপালক? তিনি বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার নিকট খানা চেয়েছিল, আর তুমি তাকে খানা দাওনি? তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে খানা দিতে, নিশ্চয়ই তা আমার নিকট পেতে? হে আদম সন্তান! আমি তোমার নিকট পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রভু! আমি তোমাকে কিরূপে পানি পান করাব, যখন তুমিই সমস্ত জগতের প্রতিপালক? তিনি বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার নিকট পানি চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে, তুমি সেখানে আমাকে পেতে?’ (মুসলিম, মিশকাত, হা/১৫২৮ ‘জানাযা’ অধ্যায়, ‘রোগীর পরিচর্যা ও রোগের ছওয়াব’ অনুচ্ছেদ।)