Collected গ্লানি

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
455
Messages
7,260
Reaction score
5,542
Points
4,013
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
গ্লানি

মূল লেখকঃ মাসুমা আক্তার বকুল







রূপা দিয়ে বাঁধানো চাচাজানের বেতের লাঠি, পিতলের হুঁকো, পুরনো সাদাকালো টিভি, চটিজোড়া আর উনার অত্যন্ত প্রিয় ‘কস্তুরি’ আতরের শিশিটা এখনও শোভা পাচ্ছে ঘরে। বিছানাটা নিভাঁজ, টানটান। সবকিছু ঝকঝকে, তকতকে। নিপূণ হাতে গোছানো। দেখলে মনে হয় মেজোচাচা কোথাও বেরিয়েছেন একটু। এক্ষুণি ফিরে আসবেন।

আমি এ বাড়িতে এসেছি দশ বছর পর। দশ বছর আগে এসেছিলাম মেজোচাচার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে। খালিদ ভাইয়ের বড় মেয়ে নীতার বিয়ে উপলক্ষ্যে আজ আবার আসা। চাচার ঘরে এসে আমি বোবা হয়ে গেছি। হিসাব মেলাতে পারছিলাম না।

বাউণ্ডুলে স্বভাবের খালিদ ভাইকে নিয়ে চাচার অনেক আক্ষেপ ছিলো। পড়াশুনা করতো না ঠিকমতো। অনার্স পড়তে পড়তে রাজনীতিতে জড়িয়ে গেল। দিনরাত এক করে পার্টি করে বেড়াতো। কোথায় কোথায় ঘুরতো কে জানে! ওকে নিয়ে চাচার দুঃশ্চিন্তা আর আফসোসের অন্ত ছিল না। শেষে সবাই বুদ্ধি দিল বিয়ে দিয়ে দেয়ার জন্য। তাতে যদি ছেলের মতিগতি ফেরে! কিন্তু দু’দুটো সন্তান আসার পরও খালিদ ভাই তার বাউণ্ডুলেপনা ছাড়তে পারলেন না।

শফিকটা চাচার খুব বাধ্য ছেলে ছিল। অনার্স, মাস্টার্স দুটোতেই ফার্স্ট ক্লাস। পরে কানাডা চলে গেল পিএইচডি করতে। বিয়েথা করে ওখানেই থিতু হয়েছে। মেজোচাচার মৃত্যুর পর আর দেশে আসেনি একবারও। শিউলি আছে রাজশাহীতে। ওর সাথেও অনেক বছর দেখা নেই।

শিউলির জন্মের ছয়মাসের মাথায় কি এক কঠিন অসুখে পড়ে চাচী মারা যান। চাচা আর বিয়ে করেননি। তিন সন্তানকে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। আমি ঘরের চারদিকে চোখ বুলাচ্ছি আর ভাবছি এসব।
-কিরে, বেরুবি না? গাড়ি এসে গেছে তো। হা করে কি দেখছিস বেকুবের মতোন? খালিদ ভাইয়ের আচমকা প্রবেশে আমার ঘোর কাটলো।
-খালিদ ভাই, মেজোচাচার ঘরে এখন কে থাকে?
-কেউ থাকে না। তবে আমি মাঝে মাঝে ঘুমাই আব্বার খাটে। কেন?
-না মানে, সবকিছু কি সুন্দর গোছানো, পরিপাটি। তাই বললাম।
-সারাজীবন তো জ্বালিয়ে মেরেছি ভদ্রলোককে। একফোঁটা শান্তি দিইনি। মৃত্যুর পর সেবা করে যদি কিছুটা পাপস্খলন হয়। খালিদ ভাই বললেন কিছুটা ব্যথাডোবা গলায়।
আর ভেতরে ভেতরে অনুতাপে মরে যেতে লাগলাম আমি।
দুরন্ত, খেয়ালী যে খালিদ ভাইকে নিয়ে চাচার দুঃশ্চিন্তার সীমা ছিলো না, সে খালিদ ভাই কি বাধ্য ছেলে হয়েছে এখন! অনুতাপে জ্বলে জ্বলে নিজেকে কেমন খাঁটি সোনা করে তুলেছে। আর আমি? আমার বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলো। চোখের পানি লুকোতে ঘুরে দাঁড়ালাম।

তিন ভাইয়ের মধ্যে আবার আব্বা সবার ছোট। জেলা শহরে করা আব্বার রিটায়ারমেন্টের টাকা দিয়ে তৈরি বাড়িটায় এখন আমি, রুবা, আমাদের দুই মেয়ে ঝিল আর তিতলীকে নিয়ে থাকি। দু’বছর আগে আব্বা-আম্মাও ছিলেন আমাদের সাথে। কিন্তু আচমকা ঝড়োহাওয়ার এক বাদলারাতে আম্মার হাঁফানির টানটা প্রবল হয়ে উঠল। হাতের কাছে রাখা ইনহেলারটা সারাঘর তন্ন তন্ন করে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেলো না। একটু বাতাসের জন্য আমার মায়ের সেই প্রচণ্ড আকুতিটা যেন আমি পরিষ্কার দেখতে পাই এখনও। সে কি লড়াই! দুর্বল শরীর নেতিয়ে পড়লো কিছুক্ষণের মধ্যেই। ঝড়কে উপেক্ষা করে বেরুবো কি বেরোবো না ভাবছি তখনও।
ঠিক সেই মুহূর্তেই আব্বা চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন।

আম্মা মারা যাওয়ার পর আব্বা গ্রামের বাড়ি চলে গেলেন। আটকাতে পারলাম না। কিংবা আটকে রাখার জন্য যে জোরটা দেখানো দরকার ছিলো, সেটা দেখালাম না। কেন দেখালাম না! রুবা আমার যতই কান ভার করুক না কেন, আমিওকি মনে মনে ভারমুক্ত হতে চাইনি? নিজের মতো করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাইনি?
‘আমি তো আব্বাকে যেতে বলিনি, আব্বা নিজে থেকেই চলে গেছেন। এতে আমার দোষটা কোথায়! সপ্তাহান্তে কথা বলি। টাকা-পয়সা পাঠাই। আমার দায়িত্ব আমি পালন করে যাচ্ছি যথাসাধ্য।’ নিজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেকেই প্রবোধ দিয়ে যাই নির্লজ্জের মতো।

কিন্তু আজ মেজোচাচার ঘরে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রবোধ দেয়া এই আলগা বাঁধের আড়ালটা যেন খড়কুটোর মতোই ভেসে গেল। চোখের উপর থেকে একটা পর্দা সরে গেল আমার। আম্মা মারা গেছেন দু’বছর হতে চললো। এই দু’বছরে আব্বার সাথে আমার একবারের জন্যও দেখা হয়নি। মাঝে মাঝে টুকিটাকি অসুস্থতার খবর পাই। কিন্তু বুড়ো বয়সে এরকম প্রায় সবারই হয় বলে আমি অচেতন উদাসীনতায় এড়িয়ে যাই। ছোটচাচী রান্না করে দেন। আব্বা নিজের ঘরে একা একা খেয়ে নেন আম্মার সাথে কথা বলতে বলতে।
‘আরিফা, শিং মাছের ঝোলটা কি অসাধারণ রাঁধতে তুমি। দু’প্লেট ভাত সাবড়ে দিতাম দু’মিনিটে। মিনুও আজ রেঁধেছে। কিন্তু কেমন জল কাটছে দেখ! সেই স্বাদ, গন্ধ কিছুই পাচ্ছি না। অবশ্য রেঁধে যে দিচ্ছে এইতো অনেক। ছেলেমেয়েরাও আজ আর কেউ নেই কাছে । তুমি কেমন করে আমাকে একা ফেলে চলে গেলে!’ চোখের কোণটা মুছে আব্বা ভাতের থালাটা সরিয়ে রাখেন একপাশে। মনের এই দৃশ্যান্তরটাই আমার কাছে সত্যি বলে মনে হয়।

আমার আব্বা আম্মাকে ছাড়া একদিনও চলতে পারতেন না। আম্মাকে নানাবাড়ি থাকতে দিতেন না কোনোদিন। কোন উৎসব-অনুষ্ঠান থাকলে সকালে যেয়ে আবার বিকেলে ফিরে আসতে হতো। ভোরবেলা আম্মার হাতের চা না হলে আব্বার দিন শুরু হতো না। ফজরের নামাজ পড়ে দু’জনে একসাথে হাঁটতে বেরোতেন। সন্ধ্যার পর ছাদে বসে গল্প করতেন। জ্যোৎস্নামাতাল রাতে দুজনে চুপি চুপি বেরিয়ে যেতেন গ্রামের মেঠোপথ ধরে।

আম্মা মারা যাওয়ার পর আব্বার দিনগুলো কীভাবে কাটছে সেটা নিয়ে কখনও মাথা ঘামাইনি। বরং আব্বার কারণে আমাদের সংসারে কী কী সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে, সেটাই চোখে পড়েছে বেশি। ফজরের নামাজ শেষে হাতের ছড়িটা ঠুকে ঠুকে আব্বা যখন সিঁড়ি দিয়ে নামেন, রুবার ভোরের ঘুমটা নষ্ট হয়ে যায়। আমারও মাথা ধরে।
তিতলীকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে গালগল্প জুড়ে দেন অন্যদের সাথে। এদিকে প্রাইভেট টিউটর এসে বসে থাকে। বাজারে গেলে কুঁচো মাছ দেখলে আব্বার আর হুঁশ থাকে না। ব্যাগ ভর্তি করে নিয়ে আসেন। এসেই পারভীনকে হুকুম করেন,
‘এগুলো পিষে বড়া বানাবি তিতলীর জন্য। আর কিছুটা দিয়ে চচ্চড়ি হবে। চচ্চড়ি আমার খুব পছন্দ। তোর দাদী এতো মজা করে রাঁধতো যে, চেটেপুটে খেতাম। ধনে পাতা নিয়ে এসেছি। মনে করে অবশ্যই দিবি কিন্তু। সাথে কাঁচামরিচ ফালি।’
পারভীন ঘাড় গোঁজ করে চলে যাচ্ছিল মুখ কালো করে। পেছন থেকে ডাক পড়লো আবার।
‘শোন, শোন চচ্চড়িতে সয়াবিন তেল দিতে মানা করিস বৌমাকে। সরিষার তেল আছে আমার ঘরে। নিয়ে যাস।’
‘দাদাজান, কুঁচা মাছ কেউ খায় না এই বাসায়। তাও আপনে নিয়া আসেন। এই মাছ কুটতে বসলে বাকি কাজের ক্ষতি হয়। এখন তো আর দাদীজান নাই যে, আমারে সাহাইয্য কইরবো।’ পারভীনের গলার ঝাঁঝে আমার আব্বা মহসীন তরফদার কেমন মিইয়ে যান। নিজের ঘরের দিকে হাঁটতে থাকেন স্খলিত পায়ে।

বাড়িময় নৈঃশব্দতা, সঙ্গীবিহীন বিষণ্ণ বিকেল, কেজো কর্তব্যে ঢেকে রাখা চা, রুবার কুঞ্চিত কপাল কিংবা ব্যস্ততার ভানে আমার স্বল্পবাক হয়ে ওঠা এ সবকিছুই হয়তো আব্বার মনে হারানো শৈশব আর কৈশোরের জন্য হাহাকার জাগিয়ে তোলে। অনুযোগের ভারী বাতাসের তাতানো তাপ হয়তো অনুভব করতে পারেন নিজের চারপাশে। আর তাই সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেন দ্রুত।

আম্মা মারা যাওয়ার তিনমাসের মাথায় আব্বা যেদিন ট্রেনের টিকেট কেটে নিয়ে আসলেন গ্রামের বাড়ি যাবেন বলে, সেদিন দুঃশ্চিন্তার চেয়ে একটা স্বস্তির অনুভূতি জেগেছিলো আমাদের মনে। শুধু তিতলীটাই মন খারাপ করে কয়েকদিন ঘুরে বেড়িয়েছিলো এ ঘর থেকে ও ঘরে।
আজ মেজোচাচার ঘরে দাঁড়িয়ে আমি আব্বার জন্য হাহাকার অনুভব করলাম বুকের মধ্যে।

-কিরে টুকুন, বেরোবি নাকি?
প্রচণ্ড মন খারাপের এমন মুহূর্তে হারিয়ে যাওয়া নাম ধরে খালিদ ভাইয়ের এই আন্তরিক ডাক যেন আমার দমবন্ধ পাঁজরে একমুঠো অক্সিজেন দিয়ে গেল।
এক লহমায় নিয়ে গেলো আমার হারানো কৈশোরে। যে কৈশোরের বেশিরভাগ সময় কেটেছে আব্বার কাঁধে চড়ে। গ্রামের মেঠোপথ ধরে আব্বা আমাকে নিয়ে বেড়াতে বের হতেন। নিয়ে যেতেন তালদীঘিতে, শিমুলতলায়। একবার তো শিমুল তুলো নাকে ঢুকে কি ঝকমারি কাণ্ড! আমি হাঁচির পর হাঁচি দিচ্ছি। তুলো বের হচ্ছে না ভালোমতো। চোখমুখ লাল হয়ে উঠেছে আমার। আব্বা দিশেহারার মতো ছুটে গিয়ে কাদের বাড়ি থেকে যেন সরিষার তেল নিয়ে আসলেন। সেটা নাকে লাগিয়ে দিতেই চুপসে গেল তুলো, সাথে জোর হাঁচি। তুলো বেরিয়ে এলো গড়গড়িয়ে।

আর একদিন পড়ে গিয়েছিলাম পুকুরে। মাঝ পুকুরে গিয়ে খাবি খাচ্ছি এমন সময় আম্মা দেখতে পেলেন। চিৎকার করে ঝাঁপ দিলেন পানিতে। আমার সাঁতার না জানা মা এবং আমি দুজনেই হয়তো সেদিন মরে যেতাম, যদি না আব্বা চিৎকার শুনে ছুটে এসে পানিতে ঝাঁপিয়ে না পড়তেন।
টনটনে ব্যথা বুকে নিয়ে নীতার বিয়েটা শেষ করলাম। তারপর উঠে পড়লাম সোনাইমুড়ীর গাড়িতে।

কার্তিকের মেঘলা সকাল কেমন জীর্ণ আর শ্রীহীন। চারদিক নিথর, নিস্তব্ধ। দূরের রাস্তায় দু’একজন গেরস্থ মানুষ হেঁটে যাচ্ছে তাদের প্রাত্যাহিক কাজে। আধখোলা দরজার সামনে ধুকপুক বুকে নিশ্চল দাঁড়িয়ে রইলাম কয়েক মুহূর্ত। শ্বাস নিলাম গভীরভাবে। তারপর আলতো হাতে দরজাটা ঠেলে ভিতরে ঢুকলাম।

আব্বা জায়নামাজে বসে আছেন। হাতে তসবীহ। আমি পিছনে এসে দাঁড়াতেই উনার দৃষ্টি ঘুরে গেলো।
সমস্ত মুখ জুড়ে বিচিত্র সব অভিব্যক্তি খেলে গেলো একের পর এক। দু’চোখের দৃষ্টিতে অন্যরকম এক আলোর আভাস ফুটে উঠতে না উঠতেই কেমন মিইয়ে গেল সেটা।

‘টুকুন!’ দৃষ্টি আর কণ্ঠে সংশয়, অবিশ্বাস।
আমি আর পারলাম না। হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়লাম আব্বার পাশে। কান্নাটুকু গিলে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললাম,
-আমাকে ক্ষমা করুন, আব্বা। শাস্তি দিন। অনেক বড় অন্যায় করেছি, পাপ করেছি আমি।
-কেন বলছো এসব? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। আব্বার কণ্ঠ নিরুত্তাপ, আবেগহীন।
-আপনি চলে এসেছেন এখানে আজ দু’বছর হয়ে গেলো। আমার একবারও আসার সময় হলো না। ছোটন ইতালী। রুমি তার সংসারে ব্যস্ত। আমরা সবাই ব্যস্ত যে যার বৃত্তবন্দী জীবনে। আপনার জীবনটা কীভাবে কাটছে সেটা আমরা কেউই ভাবিনি। উদগত কান্না আটকাতে চুপ করে গেলাম।
-আমি তো ভালোই আছি। বেশ আছি এখানে। আমার স্বজনরা আছে চারপাশে। মরে গেলে খাটিয়া ধরার লোকের অভাব অন্ততঃ এখানে হবে না।
-আব্বা, দয়া করুন। চলুন আমার সাথে। বাকী জীবনটা আপনি আমার কাছেই থাকবেন। রুমিও আপনাকে দেখে যেতে পারবে সময় সময়। এই এতোদূরে, এককোণে আপনি পড়ে রয়েছেন! ইচ্ছে থাকলেও যখন তখন আসা সম্ভব হয় না আমাদের।
-তোমাদেরকে যখন তখন আসতে হবে না, বাবা। এখানে আমি অনেক ভালো আছি। সকালবেলা নামাজ পড়ে হাঁটতে বের হই। এর, ওর সাথে দেখা হয়। কথা হয়। ইচ্ছে হলে ঘুরে বেড়াই আপনমনে। আর তাছাড়া তোমার চাচা-চাচী অনেক যত্ন করেন আমার। আমার আর ঢাকা ফেরার ইচ্ছে নেই। তুমি এসেছো এতোটা পথ! আজ থাকো, কাল যেয়ো।
-আব্বা, এতোটা নিষ্ঠুর হবেন না। তিতলী আপনার কথা বলে খুব। আপনাকে দেখতে চায়। চলুন, প্লিজ। হাতের শেষ তীরটা ছুঁড়ে দিলাম অনন্যোপায় হয়ে।
একটু থমকালেন আব্বা। কোমল কিন্তু ঋজু কণ্ঠে বললেন,
-আমারও ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করে ওকে। কিন্তু বাবা, আমি সংসারের সব মায়া কাটিয়ে এসেছি। আর ফেরা হবে না। খুব বেশি মন চাইলে ওকে নিয়ে এসো মাঝে মাঝে। আব্বা আবার তসবীহ পড়ায় মন দিলেন।
আব্বার প্রথম কথাটা শুনে একটা আশার সলতে জ্বলে উঠলেও দপ করে সেটা নিভে গেলো পরের কথাটার ব্যথাভারে।

ঝাপসা চোখে বেরিয়ে এলাম বাইরে। মেঘে ছাওয়া পাণ্ডুর আকাশের মতোই ভার হয়ে আছে বুক......।


সমাপ্ত
 
Back
Top