- Joined
- Dec 22, 2024
- Threads
- 434
- Messages
- 6,843
- Reaction score
- 4,709
- Points
- 3,963
- Age
- 41
- Location
- Dhaka, Bangladesh
- Gender
- Male
গন্ধ
মূল লেখকঃ অর্কা চ্যাটার্জি
মূল লেখকঃ অর্কা চ্যাটার্জি
একটা বিড়ি ধরিয়ে টয়লেটে বসেছি সবে আর দুটো টান দিয়েছি কি দিইনি, আবার সেই গন্ধটা নাকে এলো। গতকাল রাত্তির থেকেই এই গন্ধটা উৎপাত শুরু করেছে। এই গন্ধের জ্বালায় ভালো করে মস্তিটাই হলো না। না হলে মালটা যা মস্ত ছিল না গুরু ওফফ! ভাবতেই না শরীরের মধ্যে কেমন একটা শুরু হয়ে যায়। চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখলাম অথচ গন্ধের উৎস খুঁজেই পাচ্ছি না কিন্তু গন্ধটা আছে। অনেকটা বাসমতি চালের গন্ধের মতন। বেলা বারোটার সময় নবীনবাবুর বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার কালে এই গন্ধটা পাওয়া যায়। নবীনবাবুর বুড়ি ঠাকুমা ওই গন্ধ চালের ভাত খান। আসলে বুড়ি বিধবা মানুষ, সারাদিনে একবার মাত্র ভাত খান কিনা আর নবীন বাবুর পয়সার অভাব নেই। মাকে নব্বই টাকা কেজি দরের গন্ধচালের ভাত খাওয়ানো তার কাছে কোনও ব্যাপারই না।
এসব কথা ঐ বিলুর কাছেই শোনা। ওর বৌ নবীনবাবুর বাড়ি রাঁধুনি কিনা আর রাতে নবীন বাবুর শয্যা সঙ্গিনী। বিলুর বৌটার গতরটা ইদানিং বেশ চোখে পড়ছে, বড় বাড়ির ভালোমন্দ খাচ্ছে। বৌটার দেখছি একদিন এট্টু খবর নেওয়া লাগে, উফফ ভাবতেই না... আবার সেই গন্ধটা। বাসমতি চাল ছাড়া ইঁদুরের গায়েও এই গন্ধটা পাওয়া যায়। তাই হবে হয়তো। আশপাশে যা ঝোপ জঙ্গল হয়েছে। দূর শালা, হাগা মাথায় উঠেছে। এই উদ্ভট গন্ধের জন্য কোনও কাজই ঠিকঠাক করে হচ্ছে না। মেজাজটা পুরো খিঁচে গেছে। বিলুকে জিজ্ঞেস করতে হবে, ও ব্যাটার অনেক জ্ঞান। ক্লাস ফাইভ অবধি স্কুলে পড়েছে। এখন সত্যদার চায়ের দোকানে গেলে বিলুকে পাওয়া যাবে। কুয়োতলায় দু'বালতি জল গায়ে ঢেলে শরীরটা একটু ঠান্ডা হল। এরপর একটু বের হলাম।
আল ধরে যাচ্ছি, দেখলাম একটা কমবয়সী মেয়ে, হলদে ডুরে শাড়ি কোমরে জড়ানো। মনে হয় কড়াইশুঁটি তুলতে এসেছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না তবে পেছন দেখে বোঝা যাচ্ছে বেশ রসালো আর কচিই হবে। মেয়েটার নিটোল নিতম্বের দিকে চোখ রেখে এগোচ্ছি, মেয়েটা হঠাৎ পিছন ফিরে তাকালো। আমি থমকাতেই মুখে একগাল হাসি দিয়ে বললো- "মুড়ি দিয়ে কড়াইশুঁটি খেতে ঠাকুর্দা খুব ভালোবাসেন।" মেয়েটার মুখটা খুব সুন্দর কিন্ত মুখশ্রী দিয়ে কি হবে, শরীরটাই তো আসল তবে শরীরটাও চমৎকার আর কে না জানে 'খেঁদি পেঁচি নূরজাহান, মুখ ঢাকলে সব সমান' আর এ তো রূপসী রীতিমতন। মনেমনে একচোট হেসে বললাম- "তোমাকে এদিকে আগে কখনও দেখিনি। কার বাড়িতে থাকো আর তোমার নাম কি?" মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে আঙ্গুল তুলে বললো- "ঐ যে ঐদিকে থাকি। যাবে আমার বাড়িতে? আমি, আমার চার বছরের বড় দিদি আর আমার বুড়ো ঠাকুর্দা বাদে আর কেউ নেই। চলো আমাদের বাড়িতে।"
উঁচুনীচু আলপথ ধরে হাঁটছি। মনটা বেশ ভালো হয়ে গেছে। কতক্ষণ যে এভাবে হাঁটছি কে জানে, চোখে একটা ঘোর লেগেছিল আর মনের মধ্যে একটা নেশা। একটা ভাঙাচোরা বহুদিনের পুরনো বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালাম আমরা। ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম কোন জায়গা সেটা। চারদিকে জঙ্গল। বুনো গাছের ঝোপঝাড়। বাড়িটার গায়ে বট অশ্বত্থের ঝুড়ি নেমেছে। ওপরে তাকালে গাছের পাতার ভীড়। ছাদের দিকে চোখ পড়তেই দেখি একমাথা খোলা চুলে অপরূপা এক মেয়ে আলসেতে ঝুঁকে পড়ে তাকিয়ে আছে। ধবধবে সাদা পায়রার মতন তার একজোড়া বুক। আহ, কি সুখ! দূর থেকে দেখেই এতটা সুখ জাগে যদি, না জানি কাছে পেলে থুড়ি হাতে পেলে তো একেবারে যাকে বলে স্বর্গসুখ।
চমক ভাঙলো মেয়েটার ডাকে- "ও আমার দিদি, ঘরে আসুন। দিদির সাথে আলাপ করুন। ঠাকুর্দা এ সময় ঘুমোচ্ছে, উঠলে কথা হবে কেমন। ও আচ্ছা, জানতে চাইছিলেন তখন বলা হয়নি আমার নাম "অষ্টাঙ্গী" আর আমার দিদির নাম "ঊর্ণা"। আমি একগাল হেসে বলি খুব সুন্দর নাম তোমাদের তবে একটু খটমট এই যা। আমি তোমাকে "ছুটকি" আর তোমার দিদিকে "বড়কি" বলেই ডাকব কেমন।
একটা খিলখিল হাসি শুনে পেছনে ফিরতেই দেখি বড় মেয়েটা হেসে গড়িয়ে পড়ছে আর হাসির দমকে তার পুরুষ্টু শরীরে কাঁপন লাগছে। মেয়েটার চোখদুটো কেমন যেন অনেকটা চালধোয়া জলের মতন ঘোলাটে আর গায়ের রঙটাও তেমন তবে বেশ চকচকে।
"না মানে"- আমাকে বিড়বিড় করতে দেখে দুই বোনে একসাথে খিলখিল করে হেসে উঠলো। বড়বোনের হাতে একটা রেকাবিতে কিছু ফল। আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে বলল- "নিন, ফল খান। আমাদের বাড়িতে প্রথমবার এসেছেন।"
কি ফল এগুলো? আগে কখনও দেখিনি তো? বাজারে বিক্রি হতে কিম্বা এই গ্রামের কোথাও চোখে পড়েনি এমন ফল। টোপাটোপা ফলগুলো রসে টইটম্বুর একেবারে আর খুব মিষ্টি একটা গন্ধ বেরোচ্ছে। আমি একটা ফল হাতে নিয়ে ভাবছি খাবো কি খাবো না, এমন সময় বড় মেয়েটা বলে উঠলো- "প্রথমে সামনের দাঁত দিয়ে কামড়ে তারপর দুটো ঠোঁট আর জিভ দিয়ে চুষে চুষে খেতে হয়। এমনি করে দেখুন বুঝলেন। বাচ্চাদের দেখেননি কখনও মায়ের বুকের দুধ খেতে? তেমনি করে চুষে নিতে হয় অমৃত। এই ফলও তাই, একবার স্বাদ নিয়ে দেখুন, একদম অমৃত" পুরুষ্টু ঠোঁট দুটো সরু করে এমন একটা মুখের ভঙ্গি করলো মেয়েটা যে আবার আমার ভেতরে রক্তের দৌড়াদৌড়ি চালু হয়ে গেল।
বোকার মতো হেসে মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবছি আমাকে শেখাচ্ছে কিভাবে চুষে খেতে হয়। ও তো আর জানে না আজ পর্যন্ত কতগুলো মেয়ের শরীর এই বান্দা চুষে খেয়েছে আর একটু পরে অবিশ্যি সবই জানতে বুঝতে পারবে আমি কতটা আর কি কি জানি আর এই মেয়েটার রসালো ফলের মতন শরীরটা ওফফ আর ভাবা যাচ্ছে না। মহা আনন্দে ভেতরে ভেতরে উত্তেজনায় ফুটতে ফুটতে একটা ফল মুখে দিতে যাবো, বড় মেয়েটা হঠাৎ এক ঝটকায় সামনে থেকে প্লেটটা সরিয়ে নিয়ে আমাকে এক ধাক্কায় খাটের ওপর ফেলে দিল। বুকের আঁচল সরিয়ে ব্লাউজের বোতামগুলো পটপট করে খুলে এক নিমেষেই উন্মুক্ত করে দিল নধর নিটোল বুকদুটো।
এগুলো তো আমার কাজ। মেয়েটা নিজেই করছে কেন? তর সইছে না বোধহয় ওর। আমি কিছু বলতে চাইছিলাম কিন্ত বলার আগেই মেয়েটা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর ঠোঁট দুটো আমার ঠোঁটে চেপে ধরে প্রাণপণে চুমু খেতে লাগল। কি তৃষ্ণা মেয়েটার শরীরে। ওহ বাবা, আমার ভেতরটা যেন একেবারে শুষে নিতে চাইছে। কি প্রচন্ড তৃষ্ণা! আমি আমি আর পারছি না, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, দমবন্ধ হয়ে আসছে। তৃষ্ণায় পেটের ভেতরে সবকিছু ফেটে যাবে বলে মনে হচ্ছে। আমার বুক, জিহ্বা, কন্ঠনালী সবকিছু শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটার চোখদুটোতে কেমন যেন রঙ ধরেছে, অনেকটা চালধোয়া জলের মতন ঘোলাটে আর তার সাথে সেই পিছু ধাওয়া করা গন্ধটা।
এতক্ষণ ধরে পাইনি তো গন্ধটা। এখন আসছে, খুব তীব্র একটা গন্ধ। আমার শরীরের উপর চেপে বসে থাকা মেয়ের আলিঙ্গন যেন মৃত্যুর মতন তীক্ষ্ণ। আমি চাইছি ধাক্কা দিয়ে ওকে সরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াতে কিন্তু পারছি না। সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেও পারছি না। মেয়েটা আমাকে শুষে নিচ্ছে। শুকিয়ে যেতে যেতে আমি টের পাচ্ছি মেয়েটা অমানুষিক তৃষ্ণায় আমার রক্ত-রক্তরস-মজ্জা-বীর্য-শরীরের ভিতরের যাবতীয় জলীয় অংশ দ্রুত শুষে নিচ্ছে। আমার ভেতরটা ক্রমশ সঙ্কুচিত হতে হতে দুমড়ে মুচড়ে ছোট হয়ে আসছে। উফ, কি কষ্ট, কি তৃষ্ণা, কি যন্ত্রণা আর সবকিছু ছাপিয়ে সেই গন্ধটা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকা গন্ধটা। আর পারছি না আমি, এবার বুঝি মারাই যাবো মনে হয়।
পায়ে কি যেন একটা কামড়ে ধরলো। হাতটা ঝাড়া দিতেই দেখি একটা কালো মোটা পিঁপড়ে আমার একটা পা ধরে ঝুলছে। ও বাবা, একটা কোথায়, এ তো অনেকগুলো পা- এক এক করে গুনে দেখি মোট আটটা। কোনটা হাত আর কোনটাই বা পা? আর আমি দেওয়ালের গায়ে ঝুলছি কেন? ঘরের ভেতর চোখ ঘোরাতেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল। সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম। এতক্ষণ যা কিছু আমার সাথে ঘটলো সব বুঝলাম। মাকড়সা, হ্যাঁ মাকড়সা হয়ে গেছি আমি। একটা মৃতপ্রায় পুরুষ মাকড়সা। তার মানে ঊর্ণা আর অষ্টাঙ্গী নামের মেয়ে দুটো আসলে মাকড়সা। আবছা মনে পড়ছে কোথায় যেন একটা শুনেছিলাম, বোধহয় বিলুই বলেছিল কখনও- একজাতের মেয়ে মাকড়সা হয় যারা মিলনের পর পুরুষ মাকড়সার শরীরের সমস্ত রস শুষে খেয়ে নেয় আর পুরুষটা মরে শুকনো পাতার মতন হয়ে যায়।
তাহলে আমি আজ সেই মেয়ে মাকড়সার জালে জড়িয়ে পড়ে প্রাণ খুইয়েছি। আমি আর আমি নেই। আমি এখন আর বিলুর বন্ধু ছোটন নই। আমি এখন একটা পুরুষ মাকড়সা যে কিনা আর কিছুক্ষণ বাদেই মরে শুকিয়ে যাবে আর কোনদিন কোনও মেয়ের শরীর নিয়ে খেলা করতে পারবো না, বাংলা খেতে পারবো না। জীবনে অনেক মেয়েকে চুষে খেয়েছি, আজ তাই একটা মেয়ে মাকড়সা ঐসব মেয়েদের হয়ে বদলা নিলো। যদি মানুষের চোখ থাকতো, তবে আজ আমার দু'চোখে জল আসতই। মরা মাকড়সার চোখে জল আসে না তবে নাকে গন্ধ আসে। এতক্ষণে গন্ধের উৎস খুঁজে পেয়েছি আমি। এটা আসলে মাকড়সার গায়ের গন্ধ যেটা এখন কিনা আমার শরীর থেকে বের হচ্ছে।