Collected একজন বিজয়ী হলেন একজন পরাজিত ব্যাক্তি, যিনি কখনো হাল ছাড়েননি - আফজাল হোসেন

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
445
Messages
7,050
Reaction score
5,052
Points
4,013
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
একজন বিজয়ী হলেন একজন পরাজিত ব্যাক্তি, যিনি কখনো হাল ছাড়েননি


মূল লেখকঃ আফজাল হোসেন






দাবী করি, দেশ ভালোবাসি কিন্তু দেশ সংকটে বা মহাসংকটে পড়তে চলেছে- এমন কথা একে তাকে বলে, বাজার গরম করে তুলতে ভালো লাগে। সুখ অনুভব হয়। বড্ড আজব ভালোবাসা। এই আজব প্রেম আমাদের জীবনে বার বার গজব নিয়ে আসে- আমাদের শিক্ষা হয় না। একই থাকি।

পেট ভরে খাওয়ার পর ঢেঁকুর তুলতে অনেকের আরাম লাগে। যদি সেই শব্দতরঙ্গ সবাইকে শুনিয়ে, দেখিয়ে “ভালো খেয়েছি” বোঝাতে ইচ্ছা জাগে- সেটা অসভ্যতা, এক ধরণের বিকার। অনেক মানুষের দেশপ্রেম দেখিয়ে এবং শুনিয়ে ঢেকুর তোলার মতোই।

দেশপ্রেম আছে কি নেই- তা কি প্রমান দেবার বিষয়? একদল মানুষ কার ভিতরে কতটা দেশপ্রেম- জানতে চায়, বিচার করে রায় দিয়ে ফেলে। একজন কৃষক ক্ষেতে লাঙ্গল চালাতে চালাতে হঠাৎ দু হাত দু দিকে ছড়িয়ে দিয়ে হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠেনা, আমি দেশ ভালোবাসি। সে ক্ষেত, ক্ষেতের ফসল নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখে- সেটাই তার দেশপ্রেম।
দেশের খেটে খাওয়া মানুষের দল খেটে কূল পায়না। তারা হয়রাণ বাঁচার উপায় খুঁজে। দেশপ্রেমের বানান, মানে, উপকারিতা বা অপকারিতা- ইত্যাদি নিয়ে তাদের ভাববার সময় নেই। তাদের রক্ত ঘাম- নিজের জীবন, দেশের প্রতি ভালোবাসাকে বর্ণনা করে। মুখে বলে বোঝাতে হয় না- দেশ ভালোবাসি, দেশ ভালোবাসি।

একটা দেশপ্রেমিক সমাজ গড়ে উঠেছে- যারা খুঁজে খুঁজে দেশের নানা সংকট, শাসনের নানা অসুবিধা নিয়ে কথা বলে। এটা হচ্ছেনা, ওটা কেনো হলো না, অমুক মানুষটার ভুমিকা সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে, তমুক কি দেশের ভালো চায়? এইরকম গন্ডা গন্ডা প্রশ্ন তুলে বাজার গরম রাখে। তাতে আসর জমে, আর আসর জমলে মধ‍্যমনি হওয়া যায়, নাম দাম রৈরৈ করে বাড়তে থাকে।

দেশের মানুষের উদ্বেগ বাড়বে- এমন বিষয় বেছে নিয়ে তাতে নুন, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা- ইত‍্যাদি মিশিয়ে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা চলছে। বিরাট এক দল রোজই সে সুস্বাদু খাদ‍্যের জন‍্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষাতে থাকে।

উত্তেজিত থাকতে, উত্তেজনা ছড়াতে অনেকে পছন্দ করি- তাতে শান্তি মেলে না, স্বস্তিতেও থাকা হয় না। মাঝে মাঝে মনে হয়, শিকারের নেশায় বুঁদ থাকা মানুষেরা দেশটাকে ঘোলা পানির একটা পুকুর বানিয়ে ফেলেছে। সে ঘোলা পানিতে হৈ হৈ রৈ রৈ করে একশো এক জন মাছ শিকারিদের হুটোপুটি, ডুবোডুবি চলে। হাঁপিয়ে গেলে বেঁধে যায় ঝগড়া- তারপর হাতাহাতি, মারামারি।

হাতাহাতি, মারামারি আমাদের দেশপ্রেমের অংশ। না জেনে, না বুঝে অন্যকে দোষারোপ করাও দেশপ্রেম। সেই দুই সারমেয়র ঠকে যাওয়ার গল্পটার মতো- একটা হাড্ডির জন‍্য দুজনে কামড়া কামড়ি করছে, সেই ফাঁকে একটা কাক এসে নিয়ে গেলো হাড্ডিটা।

আমরা কতবার জিতেও, বার বার কোনো না কোনো কাকের কাছে হেরে যাই। সামান‍্য জ্ঞানের মানুষ হলেও তো বুঝতে পারার কথা, দেশের ভালো চাইলে নিজ নিজ মনে স্বচ্ছতা আনতে হয়, নিজেদের একটু সংযত হতে হয়, হতে হয় সামান‍্য ত‍্যাগী এবং ধৈর্যশীলও।

আশা করতে হয়, বিশ্বাসও রাখতে হয়- দেশ আজ যেমন আছে, কাল তার চেয়ে আরো ভালো থাকবে। ঔষধ এবং চিকিৎসায় রোগ ভালো হয়- রোগীকে তো চাইতেও হয়, সব ঠিক হয়ে যাবে। মনে বিশ্বাস টিকিয়ে রাখাও রোগ নিরাময়ের একটা শক্তি। মনের জোর অলা মানুষ কোনো বিপদে সহজে পরাস্ত হয় না। জোরহীন মানুষই কেবল যুদ্ধের নাম শুনে হেরে হয়ে যায় ভুত।

হেরে ভুত হওয়ার পথের আহ্বানে সাড়া দেই বলে- যে পথে সিংহদুয়ার, সে পথের ডাক আমরা শুনতেই পাই না।
 
Back
Top