- Joined
- Dec 22, 2024
- Threads
- 423
- Messages
- 6,708
- Reaction score
- 4,382
- Points
- 3,963
- Age
- 41
- Location
- Dhaka, Bangladesh
- Gender
- Male
"দ্য কেবিন"
মূল লেখকঃ মোঃ সাইফুল আলম
মূল লেখকঃ মোঃ সাইফুল আলম
-হ্যালো!
-জি বলেন বাবা!
-তোমরা আমাকে বাসায় নিচ্ছনা কেন?
কি সমস্যা?
-কোন সমস্যা নাই বাবা।
-স্ট্রেঞ্জ!তবে কেন হসপিটালে ফেলে রেখেছ বৌমা?
-আপনি অসুস্থ।
-ছিলাম!এখন সুস্থ্য,আমি বাসায় যেতে চাই-নিহানকে কতদিন দেখিনা!
-আচ্ছা আপনার ছেলেকে বলব।নিহান ভাল আছে বাবা।
মবিনুর রহমান দীর্ঘঃশ্বাস ছেড়ে ফোন রাখলেন।
মবিনুর রহমানের স্ত্রী গত হয়েছেন আজ প্রায় তিরিশ বছর।
আত্মীয়,অনাত্মীয়,সাধু,
সন্ন্যাসী,কেউ বাদ যায়নি তাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার জন্য পীড়াপীড়ি করেন নাই!
তিনি বিয়ে করেন নি। তার একমাত্র ছেলের দিকে তাকিয়ে তিনি বিয়ে করলেন না-দিল্লী'র লাড্ডু যারা না খেয়েছে তারা খাক; তিনি আর খেতে চান না!
ছেলের জন্য তিনি তার স্বর্বস্ব ত্যাগ করেছেন।আত্মীয় স্বজন,চাকুরির ক্যারিয়ার সব তার মাঠে মারা গেছে এই ছেলে ছেলে করে।
আবিদ কে তিনি নিজ হাতে লেখাপড়া শিখিয়েছেন।ষষ্ঠ শ্রেনী পর্যন্ত নিজে স্কুলে দিয়ে এসেছেন,নিজ হাতে রান্না করে খাইয়েছেন।
চাকর বাকরের হাতে ছেড়ে দেন নি;বুয়ার হাতে বানানো ফিডার খেতে দেন নি।
সেন্ট জোসেফ স্কুলের কঠিন নিয়মাচারে থেকে বিদ্যার্জন করেছে সে।
ছোট বেলা থেকেই আবিদ চমকপ্রদ রেজাল্ট করে যাচ্ছে।ছেলেটা অসম্ভব মেধা নিয়ে জন্মেছে!
সেই আবিদ বড় হল।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং এ অনার্স শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসও কমপ্লিট করে ফেলল!
বিশ্বখ্যাত তেল কোম্পানি শেভরনের টেরিটরি ইঞ্জিনিয়ার সে!বারিধারায় বিশাল বাড়ি,ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্য সার্বক্ষনিক লাক্সারিয়াস টেসলা ব্রান্ডের গাড়ি,দারোয়ান,মালি,লন্ড্রিম্যান,কুক,সে এক এলাহীকান্ড!
মবিনুর রহমান অগ্রনীব্যাংকের ডিএমডি হিসেবে রিটায়ার করেছেন ২০১৮ সালে।
একমাত্র পুত্র,পুত্রবধু,পৌত্র নিহানকে নিয়ে ভালই কাটছিল তার অবসর জীবন।বৌমা ইসরা আর্কিটেক্ট।
এই মেয়েটি কি এক অজ্ঞাত কারনে শশুরের প্রতি বিরক্ত।সারাক্ষন কপাল ভাঁজ করে রাখে।শাশুড়ি,ননদ,দেবর কেউ নেই-তবু কপাল ভাঁজ করে রাখে!
মুখ ফুটে বলে না কিছু,তবে তলে তলে যে কিছু একটা ঘুট পাকাচ্ছে বুঝা যায়।
একদিন অফিস শেষে আবিদ সোজা বাবার বেডরুমে ঢুকে পড়ে-
-বাবা!কেমন আছো?
-ভাল!তুমি হঠাৎ বিনা শিডিউলে?তুমিতো মাসে দু'দিন ছাড়া আমায় দেখতেই আসোনা;অথচ একই বাড়িতে থাকি আমরা!
-বাবা!তুমিতো জানই অফিস আমায় কতটা ব্যস্ত রাখে!
-জানি!একটা কথা কি শোনার সময় হবে তোমার?
-বাবা!এভাবে বলেনা;আমার খারাপ
লাগে।
-গত সপ্তায় মর্নিংওয়াক শেষে তোমার এন্ড্রু কাকা এসেছিল আমায় দেখতে।
তোমার বউ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে
জানো?
-নুরুল আহসান এন্ড্রু কাকা?
-ইয়েস!হি ইজ মাই কলিগ এন্ড ওয়াজ অ্য পপুলার ডিএমডি অফ অগ্রনীব্যাংক।
সে আমার একজন ভাল বন্ধু।
-আই অ্যাম সো সরি ড্যাড।আই উইল আস্ক হার!বাবা যা বলতে এসেছিলাম!
আমরা এই বাড়িটা ভাড়া দিয়ে
বারিধারার বাসায় উঠব।
মবিনুর রহমান যেন তড়িতাহত হলেন।
বলে কি ছেলেটা!এটা আবিদের বাপের বাড়ি।
-বাবা! ওটাওতো আমার নিজ বাড়ি,ইসরা মনের মত করে সাজিয়েছে বাড়িটা।
নিহানের স্কুলটাও কাছে।
মবিনুর রহমান এখন অচল মাল!তার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্যই নেই এখন আর।
বারিধারার বাড়িটাও বেশ সুন্দর!কিন্তু তার মন টেকেনা।মর্নিং ওয়াকের সঙ্গীরা কেউ নেই।বুড়ো বয়সের আড্ডার বন্ধুদের তিনি খুব মিস করেন।
নিহানকে আজ ক'দিন ধরে দাদা মবিনুর রহমানের সাথে থাকতে দেয়া হয়না।
মবিনুর রহমান রাতে শোবার সময় ডাকেন-
-নিহান!ভাই আমার,লেট'স স্লিপ।
-ওহ নো!আম্মু তোমার সাথে শু'তে নিষেধ করেছে।
-কেনরে?আমি কি করেছি?
-তুমি রাতে বিছানায় পেশাব করে দাও।
বলেই নিহান খিল খিল করে হেসে দৌঁড় দিল।
মবিনুর রহমান টাসকি খেয়ে গেলেন!বৃদ্ধ বয়সে সহজে ঘুম আসতে চায় না!
নিহান পাশে থাকলে তাড়াতাড়ি ঘুম
আসে।
তিনি বারান্দায় অস্থির পায়চারি করছেন!
শুক্ল পক্ষের চাঁদের আলো বারান্দায় এসে পড়ছে।অদ্ভুত এক আলো ছায়ার খেলা!
হঠাৎ তার কান উৎকর্ণ হল,আবিদের ঘর থেকে জোরে জোরে কথা ভেসে আসছে-
-বাবা বিছানায় পেশাব করে দেয়,এ কথা তুমি আমায় বিশ্বাস করতে বল-ইসরা?
-তবে কি নিহান পেশাব করে?দেখো আবিদ,কোনটা বড়দের পেশাব আর কোনটা ছোটদের এটুকু বুঝার মত বয়স আমার হয়েছে প্রিয়।
-আস্তে কথা বল-বাবা শুনবে।
-আমি শিউর বাবার প্রোষ্টেড গ্লান্ড এনলার্জ করেছে।
উনার যা বয়স এই বয়সে সার্জারিও করা যাবেনা।
আমার হইছে জ্বালা;সারা জীবন মুতের উপর বসবাস করতে হবে-ওয়াক থুঃ!
ওই ঘরে ঢুকা যায় না-গন্ধে নাড়িভুড়ি উল্টে আসে আমার।
-সাজেষ্ট মি প্লিজ!হোয়াট শুড উই ডু!
বাবাকে কি ওল্ড হোমে রেখে আসব?
-না!না!কস্মিনকালেও না!তোমার সোশ্যাল স্টাটাস ফল করবে-বেটার কোন একটা---
মবিনুর রহমান শেষ কথাটা পরিষ্কার শুনতে পেলেন না।
একরাশ বেদনা নিয়ে তিনি শু'তে গেলেন!
জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়ে দেখেন;
বাইরে উদাস করা থৈ থৈ জোছনা!
সারাটা জীবন সঙ্গিনীবিহীন কাটিয়ে দিলেন তিনি,কার জন্য?বিছানায় এপাশ ওপাশ করছেন মবিনুর।তার কেন যেন মনে হচ্ছে তার মৃত স্ত্রী রুমানা তার পাশে শুয়ে আছে!
-রুমা!ঘুম আসছে না একটু চুলটা বিলি করে দেবে?
-হুম!তুমি ঘুমাও আমি বিলি করে দিচ্ছি।
আজকাল প্রতি রাতেই রুমানাকে পাশে পাওয়া যায়;এবং প্রতি রাতেই মবিনুর রহমানের চুল বিলি করে দেন রুমানা!
বয়সের কারনে মবিনুর রহমানের ঘুম পাতলা হয়ে গেছে;তবু স্ত্রী রুমানা চুলে হাত দেয়া মাত্রই তার চোখে ঘুম এসে যায়!
আজ তার ঘুম আসছে না!তিনি তার যৌবন বয়সের আত্মত্যাগের হিসাব মিলাতে পারছেন না।
-রুমা!তোমার ক্লান্তি লাগছে না?
-না!তুমি ঘুমাও!
-তোমার মনে আছে আবিদকে জন্ম দেয়ার রাতটির কথা?
-এমন আনন্দ বেদনার কথা কোন মেয়েই ভুলতে পারেনা।
মবিনুর রহমানও তিরিশ বছর আগেকার সেই ঝড়ের রাতের কথা ভুলতে পারেন না!
বৈশাখ মাস!
বিকেল থেকেই আকাশ কেমন ঘন কালো হয়ে আছে।রুমানা আক্তারের পেইন উঠল।তিনি ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছেন।
কলাবাগানের ডলফিন গলির বাসায় একা একা তিনি ঘেমে নেয়ে উঠছেন!
স্বামী মবিনুর রহমানকে ফোন করারও কোন উপায় নেই।নিচে ফোনের দোকানে যাওয়ার মত শারিরীক অবস্থাও তার নেই!
ভাড়া বাসায় তিনি কাকে সাহায্যের জন্য ডাকবেন?
মবিনুর রহমান যখন অফিস শেষে বাসায় ফিরলেন তখন এশার আযান হচ্ছে।
ততক্ষনে রুমানা আক্তারের 'পানি ভাঙ্গা'শুরু হয়েছে!পরনের ম্যাক্সি ভিজে গেছে!
তিনি এক ঝটকায় রুমানাকে কোলে তুলে নিয়ে ছুটতে লাগলেন।বাইরে কাল বোশেখীর শোঁ শোঁ শুরু হয়ে গেছে।গলির মুখে আসতেই ঝড় শুরু হয়ে গেল।এই সময় বিদ্যূত চলে গেল।
মবিনুর রহমান পাগলের মত স্ত্রীকে নিয়ে আজিমপুর ম্যাটারনিটির দিকে ছুটছেন।
ঝড়ো রাস্তায় রিক্সা,স্কুটার কিছুই নেই।
তিনি বিলাপ করে কেঁদে উঠলেন-ইয়া আল্লাহ সাহায্য কর!
হঠাৎ কোত্থেকে একটা পুলিশ ভ্যান এসে একেবারে মবিনুর রহমানের পায়ের কাছে এসে ব্রেক কষল।
জানালা খুলে দিয়ে বিস্মিত অফিসার!
-আরে ভাই আপনি যাবেন কোথায়?কি হয়েছে উনার?
-আজিমপুর ম্যাটারনিটি।মবিনুর রহমান আর বলতে পারলেন না!
পুলিশ অফিসার চট করেই বুঝে ফেললেন ব্যাপার সিরিয়াস।ধরাধরি করে রুমানাকে ভ্যানে তোলা হল!
ফাঁকা রাস্তা,পুলিশ ভ্যান দ্রুত ছুটছে!
মবিনুর রহমান পাগলের মত প্রলাপ বকছেন-আরো জোরে পুলিশ ভাই-আরো
জোরে!
১৯৮৫ সালে আজিমপুর ম্যাটারনিটিতে কোন 'সিজার ফ্যাসিলিটি' ছিলনা,নিজস্ব জেনারেটর ছিলনা!
সেই অন্ধকার রাতে রুমানা আক্তার লেবার রুমে সারারাত প্রসব বেদনায় কাতরালেন।
নার্স,আয়া,আর নবীন ডাক্তারের হাতে প্রিয়তমা স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে তিনি বাইরে পায়চারী করছেন!নতুন চাকরি তার।
প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ডেলিভারি করানোর মত সামর্থ্য তখনও মবিন সাহেবের হয়নি!
লেবার রুমে পুরুষের প্রবেশাধিকার নেই!
ইউরোপ,আমেরিকায় এসময় স্বামীকে লেবার রুমে স্ত্রীর শিয়রে হাতটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেয়া হয়।এতে স্ত্রী যেমন সাহস হারায় না স্বামীটিও তেমন বুঝতে পারে মা হওয়ার বেদনা কত প্রকট!
মবিন সাহেবেরও লেবার রুমে যেতে ইচ্ছে করছে-কিন্তু কাউকে বলার সাহস পাচ্ছেন না তিনি!
১৯৮৫ সালের ১৮ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার।
ফজরের কিছু আগে আগে আবিদ ভূমিষ্ঠ হল।একেবারে নরমাল ডেলিভারি।
মবিনুর রহমান হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কেবলামুখী হয়ে আজান দিচ্ছেন-
'আশহাদু আল্লাহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'!
আনন্দে তার চোখে জল এসে যাচ্ছে।
আজিমপুর ম্যাটারনিটির সাধারন বেডে শুয়ে রুমানা আক্তার মুচকি মুচকি হাসছেন!
মবিন সাহেবের ঘুম ভেঙ্গে গেল।
তিনি উচ্চস্বরে ডাকলেন-
-রুমা!রুমা!
তার পাশে কেউ নেই।
হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে আছেন তিনি!মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে।
মবিন সাহেবের বুক চিড়ে একটা দীর্ঘঃশ্বাস বেরিয়ে এল-'তুমি না হয় রহিতে কাছে কিছুটা সময়'!
আজ রাতে হাসপাতালের রেসিডেন্ট
ডাইরেক্টর গোলাম কিবরিয়া মবিনুর রহমানকে নৈশভোজে নিমন্ত্রন করেছেন!
দশতলার ছাদে চমৎকার রুফটপগার্ডেন!
বর্ণীল ফুলের সৌন্দর্যে চোখ ধাঁধিঁয়ে যায়!
ছাদের এককোনে তার বাংলো প্যাটার্ন রেসিডেন্স।
ছাদে বসে দু'জনে এই গল্প সেই গল্প করছেন।
বসন্ত বাতাসে মবিন সাহেবের সাদা চুল উড়ছে!
বাহারি ফুলের গন্ধে তার মাতাল হওয়ার যোগাড়!
-স্যার!আমাদের হাসপাতাল,এর সেবা,এনভায়রনমেন্ট আপনার কেমন লেগেছে?
-বেশ ভাল!
-স্যার!আমরা আপনাকে ছাড়তে চাচ্ছিনা!আরো কিছুদিন থাকুন না আমাদের সাথে!
-নো নো থ্যাংক ইউ!থ্যাংক ইউ!বাসায় নিহান আমার জন্য কেঁদে কেটে অস্থির! তাছাড়া আমি সম্পুর্ন সুস্থ্য;সুস্থ্য মানুষের হাসপাতালে থাকার কোন মানে হয়না।
রেসিডেন্ট ডাইরেক্টর মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।
চোখে চোখ রেখে কথা বলতে তার সংকোচ বোধ হচ্ছে-
-স্যার!আপনার বাড়ি ফিরা হচ্ছেনা সহসাই।আপনি তো জানেন এসব বিলাস
বহুল হাসপাতাল চালানো অধিক
ব্যায়সাধ্য।
আপনাদের মত পার্মানেন্ট কিছু পেশেন্ট কাম বোর্ডারের কল্যানে খরচ অনেকটা উঠে আসে।
আবিদ স্যারের সাথে আমাদের হাসপাতালের একটা এগ্রিমেন্ট হয়েছে হোল ইয়ার লং।
আপনি এখানে থাকবেন,আপনার চিকিৎসা,মেডিসিন,নার্সিং,উইকলি সাইট সিয়িং সব আমরাই করাব!আপনি শুধু এখানে থেকে আমাদের ধন্য করবেন!
মবিনুর রহমানের চোখ সরু হয়ে উঠল।
তিনি ঠিক বুঝতে পারছেন না,তিনি কি শুনছেন!এত বড় ছলনা?ওল্ডহোমের আদলে হাসপাতালের কেবিন?
-সাবাশ পুত্র সাবাশ!এই না হলে মাইনিং এক্সপার্ট?
তুমি মৃত্তিকার গভীর থেকে তেল গ্যাস আহরনের বিদ্যা অর্জন করতে শিখেছ;
হৃদয় খুঁড়ে ভালবাসা,স্নেহ মমতা আহরন করতে শিখনি!
তিনি রুফটপ গার্ডেনের বেতের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।মাথাটা হাল্কা চক্কর দিয়ে উঠল যেন!
দাঁড়াতে না পেরে আবার বসে পড়লেন চেয়ারটায়।
কে যেন তার শ্বাসনালী চেপে ধরে আছে!
তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না।শরীর ঘেমে উঠেছে।
বুকের বাম দিকটা কে যেন খামচে ধরে আছে!তিনি অষ্পষ্ট স্বরে ডাকলেন-
নিহান!নিহান!
রেসিডেন্ট ডাইরেক্টর চিৎকার করে হুকুম দিচ্ছেন-
-ইমার্জেন্সি!ইমার্জেন্সি!
অকস্মাৎ মবিনুর রহমানের মাথাটা বেতের চেয়ারের উপর কাত হয়ে ঢলে পড়ল!তার রেশম সাদা চুলগুলো দখিনা বাতাসে তখনো দুলছিল!