- Joined
- Dec 22, 2024
- Threads
- 464
- Messages
- 7,492
- Reaction score
- 6,187
- Points
- 4,063
- Age
- 41
- Location
- Dhaka, Bangladesh
- Gender
- Male
দাদির অসুস্থতা
মূল লেখকঃ শামিম খান
মূল লেখকঃ শামিম খান
দাদীর অসুস্থতার সংবাদ নিয়ে ফুপুবাড়িতে পাঠানো হলো আমাকে। দুই ঘন্টার লঞ্চ জার্নির পরে প্রায় ১০ কিলোমিটার হাটা রাস্তা। গাড়ি চলতো না ওই পথে। গ্রামে গঞ্জে রিকশাও তখন বিলাসিতা। সুতরাং, হেটেই যেতে হয়েছে পুরোটা।
পথে হাটতে হাটতে সামনে যা পরেছে- ফুটবল, দাঁড়িয়াবান্দা, বোম্বাস্টিং। দূর গ্রামের অপরিচিত ছেলেদের সাথে প্রায় সব খেলাতেই অংশ নিয়েছি। ইটভাটায় দাঁড়িয়ে থেকে "কিভাবে ইট বানায়" বিষয়ক জ্ঞানার্জন করেছি।
এক লোক শিমুল তুলা পারতেছে, সারা এলাকা উড়ে বেড়াচ্ছে সেই তুলা, উনি একা ধরতে পারছেন না। ছোট্ট আমি, তুলা ধরার জন্য বানানো বিশেষ লাঠি হাতে ছুটে ছুটে সব তুলা একাট্টা করে পুটলি বেঁধে তার বাড়ি অবধি দিয়ে এসেছি।
নেহালগঞ্জের খেয়া পার হতে গিয়ে দেখি মাঝি একলা মানুষ। বৈঠা বাইতে গিয়ে জিহ্বা বাইর হয়ে যাচ্ছে। জানটা বোধহয় গলায় আটকে আছে, যেকোন সময় ফুঁস করে বের হয়ে যাবে অকস্মাৎ। মায়া হলো।
দাঁড় টানা শুরু করলাম তার সাথে। এপাড় আসলাম, আবার ওপাড় গেলাম, আবার এপাড় আসলাম। এভাবে কয়েকবার করে আমি যখন হাঁপিয়ে গেলাম, জিহ্বা বের হয়ে আসতে চাইলো বুড়ো মাঝির মত, নেমে রওনা দিলাম গন্তব্যে।
সংবাদটা দিয়ে আমার দিনে দিনেই ফেরার কথা ছিলো। স্কুল আছে, সামনে পরীক্ষা, কত পড়া বাকি। কিন্তু, পৌঁছলাম গিয়ে সন্ধ্যার পর। এবং যে কারণে গিয়েছি, সারাদিনের কর্মযজ্ঞের ঘোরে তা বেমালুম ভুলে গেছি!
গিয়েই তো ঈদ। ভাইয়েদের সাথে অনেক রাত পর্যন্ত চোর-ডাকাত-পুলিশ খেলা, দিনের বেলায় তাদের স্কুলে যাওয়া, ফুপার পানের বরজে বাঘদাশ খোঁজা, ডাহুক ধরে পিকনিক খেতে খেতেই চার-পাঁচদিন চলে গেল।
ফুপুবাড়ির পাশের বাড়িতে এক মুরুব্বি মারা যাওয়ার পর আমার মনে পড়লো, "আরে! আমি তো দাদীর অসুস্থতার খবর নিয়া আইছি! খাইছেরে খাইছে।" জাম গাছের মগডালে বসা অবস্থায় ফুপুরে ডাক দিয়ে দাদীর খবরটা বললাম।
ফুপু হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে রওনা দিলেন আমাদের বাড়ির দিকে। কোনোমতে লাফ দিয়ে নেমে আমিও তার পিঁছু নিলাম। সারাপথ ফুপু আমাকে বকতে বকতে এলেন। আমি আল্লাহ আল্লাহ করতেছিলাম এই বলে যে,
আল্লাহ!
দাদী যেন বেঁচে থাকে। নইলে আমার বেঁচে থাকা টাফ হয়ে যাবে!
সমাপ্ত