গল্প শুরু...
শরতের দুপুর। বাইরের হাওয়া ঠান্ডা হলেও রুনার ঘরের ভেতরটা কেমন যেন ভেজা ভেজা গরম। ছয় মাস হলো রুনার বিয়ে হয়েছে লতিফের সাথে। কিন্তু সম্পর্কের চেয়ে দায়িত্বই যেন বেশি ঘিরে ধরেছে তাকে।
এই ভরদুপুরে বাড়িতে কেউ নেই। লতিফ মাঠে গেছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাটে। এমন সময়েই দরজায় ধপ ধপ আওয়াজ।
— “রুনা, আমি হারুন স্যার... এক মিনিট আসি?”
রুনা একটু চমকে উঠলেও মুখে একটা হালকা হাসি এনে দরজা খুলে দিল।
— “স্যার, আপনি এখানে? এই সময়?”
— “তোমার শ্বশুর বলেছিল তুমি হাতের লেখা শিখতে চাও। ভাবলাম সময় করে একটু আসি…”
রুনা মাথা নিচু করে বলল, “ওহ, হ্যাঁ… আসেন ভিতরে।”
ঘরে ঢুকতেই হারুন স্যারের চোখ আটকে গেল রুনার ঘামে ভেজা কপালে। পাতলা সুতির কামিজটা শরীরে লেপ্টে আছে। ঘরটা নিঃশব্দ, শুধু দূরে কোথাও একটা ফ্যান ঘুরছে — ধীরে, ধীরে।
হারুন স্যার খাতা খুলে কিছু লিখতে শুরু করলেন।
— “এই লাইনটা দেখো, 'ল' টা এভাবে না লিখলে হবে না।”
রুনা একটু ঝুঁকে এলো। হারুন স্যারও কলমটা ধরে দেখালেন। হঠাৎ হাত ছুঁয়ে গেল রুনার আঙুলে। শরীরটা কেঁপে উঠল দুইজনের।
— “স্যার…”
— “হ্যাঁ?”
— “আপনি যদি কিছু মনে না করেন… আমি মাঝে মাঝে খুব একা লাগে। এই বাড়িতে কেউ আমাকে বোঝে না।”
হারুন স্যার থেমে গেলেন। চোখ রাখলেন রুনার চোখে। সেই চাহনিতে কষ্ট, না হয় কিছু অজানা আকাঙ্ক্ষা।
— “রুনা, আমি শিক্ষক মানুষ, কিন্তু মানুষও তো! চোখ তো আমারও আছে…”
দুজনেই চুপ। বাইরের বাতাস হালকা জানালার পর্দা উড়িয়ে দিল। সেই বাতাসে রুনার চুলের গন্ধ এসে লাগল হারুন স্যারের নাকে।
আস্তে আস্তে, স্যার বললেন:
— “তুমি যদি কিছু মনে না করো, আমি মাঝে মাঝে তোমার সাথে কথা বলতে চাই। গল্প করতে চাই। মানুষিকভাবে পাশে থাকতে চাই।”
রুনা মৃদু হেসে বলল, “এই ঘরে ফ্যান ঘুরে, আর কেউ ঘোরে না… আপনি আসলে অন্তত বাতাস হবে।”
দুজনের চোখে চোখ। এই প্রথম, স্যারের গলায় কাঁপন। তিনি আস্তে করে বললেন:
— “তুমি জানো, আজকাল স্কুলে পড়ানোতেও মন বসে না। তোমার কথা ভাবলেই মনে হয়, বাকি জীবন একটা ভুল বই পড়ছি।”
রুনা হেসে উঠল। কিন্তু সেই হাসি গলার নিচে গিয়ে কেমন যেন থেমে গেল। ঠোঁট কাঁপছে।
— “স্যার… আপনি চলে যান। কেউ দেখে ফেললে আমার সংসার থাকবে না।”
হারুন উঠে দাঁড়ালেন। কিন্তু দরজা পর্যন্ত গিয়ে থেমে গেলেন।
— “একটা কথা বলি?”
— “হ্যাঁ…”
— “তোমার চোখে লুকানো কষ্ট আমি পড়তে পারি। তুমি যদি চাও, আমি শুধু আলাপ করবো, স্পর্শ নয় — শুধু বোঝাপড়া।”
রুনা ধীরে বলল, “তাইলে… কাল আসবেন? লতিফ সকালে মাঠে যায়।”
হারুন স্যারের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি — “কাল দেখা হবে। তবে কলমের নিচে নয়, চোখের ভাষায়।”
---- শেষ নয়... শুরু
বাইরের ফসলের মাঠে বাতাস বয়ে যায়। ঘরের ভেতর একটা অদৃশ্য বন্ধন জন্ম নেয় — গন্ধে, চাহনিতে, আর চুপিসারে বলা কথায়। সমাজ দেখবে শিক্ষক আর গৃহবধূ। কিন্তু সেই ঘরের এক কোণ, জানে গল্পটা কেমন অন্যরকম ছিল।
শরতের দুপুর। বাইরের হাওয়া ঠান্ডা হলেও রুনার ঘরের ভেতরটা কেমন যেন ভেজা ভেজা গরম। ছয় মাস হলো রুনার বিয়ে হয়েছে লতিফের সাথে। কিন্তু সম্পর্কের চেয়ে দায়িত্বই যেন বেশি ঘিরে ধরেছে তাকে।
এই ভরদুপুরে বাড়িতে কেউ নেই। লতিফ মাঠে গেছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাটে। এমন সময়েই দরজায় ধপ ধপ আওয়াজ।
— “রুনা, আমি হারুন স্যার... এক মিনিট আসি?”
রুনা একটু চমকে উঠলেও মুখে একটা হালকা হাসি এনে দরজা খুলে দিল।
— “স্যার, আপনি এখানে? এই সময়?”
— “তোমার শ্বশুর বলেছিল তুমি হাতের লেখা শিখতে চাও। ভাবলাম সময় করে একটু আসি…”
রুনা মাথা নিচু করে বলল, “ওহ, হ্যাঁ… আসেন ভিতরে।”
ঘরে ঢুকতেই হারুন স্যারের চোখ আটকে গেল রুনার ঘামে ভেজা কপালে। পাতলা সুতির কামিজটা শরীরে লেপ্টে আছে। ঘরটা নিঃশব্দ, শুধু দূরে কোথাও একটা ফ্যান ঘুরছে — ধীরে, ধীরে।
হারুন স্যার খাতা খুলে কিছু লিখতে শুরু করলেন।
— “এই লাইনটা দেখো, 'ল' টা এভাবে না লিখলে হবে না।”
রুনা একটু ঝুঁকে এলো। হারুন স্যারও কলমটা ধরে দেখালেন। হঠাৎ হাত ছুঁয়ে গেল রুনার আঙুলে। শরীরটা কেঁপে উঠল দুইজনের।
— “স্যার…”
— “হ্যাঁ?”
— “আপনি যদি কিছু মনে না করেন… আমি মাঝে মাঝে খুব একা লাগে। এই বাড়িতে কেউ আমাকে বোঝে না।”
হারুন স্যার থেমে গেলেন। চোখ রাখলেন রুনার চোখে। সেই চাহনিতে কষ্ট, না হয় কিছু অজানা আকাঙ্ক্ষা।
— “রুনা, আমি শিক্ষক মানুষ, কিন্তু মানুষও তো! চোখ তো আমারও আছে…”
দুজনেই চুপ। বাইরের বাতাস হালকা জানালার পর্দা উড়িয়ে দিল। সেই বাতাসে রুনার চুলের গন্ধ এসে লাগল হারুন স্যারের নাকে।
আস্তে আস্তে, স্যার বললেন:
— “তুমি যদি কিছু মনে না করো, আমি মাঝে মাঝে তোমার সাথে কথা বলতে চাই। গল্প করতে চাই। মানুষিকভাবে পাশে থাকতে চাই।”
রুনা মৃদু হেসে বলল, “এই ঘরে ফ্যান ঘুরে, আর কেউ ঘোরে না… আপনি আসলে অন্তত বাতাস হবে।”
দুজনের চোখে চোখ। এই প্রথম, স্যারের গলায় কাঁপন। তিনি আস্তে করে বললেন:
— “তুমি জানো, আজকাল স্কুলে পড়ানোতেও মন বসে না। তোমার কথা ভাবলেই মনে হয়, বাকি জীবন একটা ভুল বই পড়ছি।”
রুনা হেসে উঠল। কিন্তু সেই হাসি গলার নিচে গিয়ে কেমন যেন থেমে গেল। ঠোঁট কাঁপছে।
— “স্যার… আপনি চলে যান। কেউ দেখে ফেললে আমার সংসার থাকবে না।”
হারুন উঠে দাঁড়ালেন। কিন্তু দরজা পর্যন্ত গিয়ে থেমে গেলেন।
— “একটা কথা বলি?”
— “হ্যাঁ…”
— “তোমার চোখে লুকানো কষ্ট আমি পড়তে পারি। তুমি যদি চাও, আমি শুধু আলাপ করবো, স্পর্শ নয় — শুধু বোঝাপড়া।”
রুনা ধীরে বলল, “তাইলে… কাল আসবেন? লতিফ সকালে মাঠে যায়।”
হারুন স্যারের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি — “কাল দেখা হবে। তবে কলমের নিচে নয়, চোখের ভাষায়।”
---- শেষ নয়... শুরু
বাইরের ফসলের মাঠে বাতাস বয়ে যায়। ঘরের ভেতর একটা অদৃশ্য বন্ধন জন্ম নেয় — গন্ধে, চাহনিতে, আর চুপিসারে বলা কথায়। সমাজ দেখবে শিক্ষক আর গৃহবধূ। কিন্তু সেই ঘরের এক কোণ, জানে গল্পটা কেমন অন্যরকম ছিল।