Collected বিকৃত মন

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
415
Messages
6,023
Reaction score
2,753
Points
3,963
Age
40
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
বিকৃত মন

মূল লেখকঃ সুবর্না শারমিন নিশী






হঠাৎ খুব কাছের বন্ধু নাহিদের কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে আমি অবাক হয়ে যাই। সে শুধুই আমার বন্ধু, অন্যরকম কোন প্রকার ঘনিষ্ঠতাই তার সাথে আমার ছিল না। এমনকি এই ৬/৭ বছরের বন্ধুত্বের মধ্যে আমার নজরে অন্তত সেরকম কোন কিছু পড়েনি। অন্য ৮/১০টা বন্ধুর মতোই সহজ স্বাভাবিক সাধারণ সম্পর্ক আমাদের।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, অন্য বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে এমনকি আমার আম্মুকে দিয়ে বুঝিয়ে তাকে শান্ত করতে হয়েছিল, এতটাই পাগলামি শুরু করেছিল। পরে অবশ্য সরি বলেছে তবে আমি একটু দূরে দূরেই থাকতাম। ইন্টার্নশিপ শেষ করার পরে আমি তখন একটা প্রাইভেট মেডিকেল হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলাম।

তার কিছুদিন পরেই আমার বিয়ে হলো পারিবারিক ভাবে। বিয়ে তে অবশ্য নাহিদ এসেছিল। সে অন্য বন্ধুদের সাথে মিলে বেশ আনন্দ-ফূর্তিও করেছে। আমার বুকের ভেতর থেকে পাথর নেমে গিয়েছিল। তবুও পরবর্তীতে খানিকটা দূরত্ব বজায় রাখতাম।

এমনিতে ফোনে কথাবার্তা না হলেও ফেসবুকে এড ছিল। তাছাড়া গ্রুপে মাঝে মাঝেই কথাবার্তা হতো। তবে একদিন আমি বেশ অবাক হলাম যখন ও সরাসরি আমাকে ফোন দিল তাও আমার বিয়ের প্রায় বছর পাঁচেক পর।

-শোন মৃত্তিকা, বিয়ে করছি সামনেই, তোর দাওয়াত।
-তাই নাকি! কবে তোর বিয়ে?

সম্পূর্ণ কথাটা এড়িয়ে গিয়ে নাহিদ বলল,
-মেয়ে অনেক সুন্দরী এবং মেডিকেল সেকেন্ড ইয়ার। ওরকম ইন্টার্ন শেষ করে চাকরি করা কোন বুড়োধামরী নয়। বাপ নামকরা ব্যবসায়ী। তাছাড়াও ওর আর কোন ভাই বোন নেই।
আমি সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারছিলাম নাহিদ আসলে আমাকে অপমান করার জন্যই এতগুলো কথা বলছিল।
কবে বিয়ে কি সমাচার কিছুই আর জিজ্ঞেস না করে আমি বললাম,
- ঠিক আছে সময় পেলে অবশ্যই তোর বিয়েতে যাবো।

ও তৃপ্তির হাসি হেসে ফোনটা রেখে দিল।

বিয়েতে আমি যাইনি আসলে ওটা তো কোন দাওয়াত ছিল না। সে যাই হোক বিয়ের ছবিটবি বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে আমি দেখেছি, মেয়ে আসলেই অনেক সুন্দর।

কিন্তু বছর দিনের পর শুনলাম ওদের নাকি ডিভোর্স হয়ে গেছে। কমন ফ্রেন্ড লিনা বললো,
-জানিস দোষটা আসলে নাহিদেরই ছিল
-মানে!
-বিয়ের পর থেকেই নানান বিষয় নিয়ে বউকে সন্দেহ করতো। সারাক্ষণ ঝগড়াঝাঁটি, ছেলে ব্যাচমেটদের সাথে মিশতেও দিত না। অথচ নিজে সারাক্ষণই আমাদের সাথে গ্রুপে একটিভ আছে। এছাড়াও নিজের ফিমেল কলিগদের সাথে এখানে ওখানে যাচ্ছে। ও যদি কনজারভেটিভ হতো তাহলে শুধু মেয়েটার ক্ষেত্রে কেন? ও নিজেও তো বেছেই চলত তাই না!
-তাই বলে একেবারে ডিভোর্স!
-মেয়েটা আর কত ধৈর্য ধরবে বল? যথেষ্ট হয়েছে। মাঝে মাঝে নাকি গায়ে হাত তুলতো। এইতো কিছুদিন আগেই কনসিভ করার কারণে প্রচন্ড রকম মারধর করেছে আর বলেছে এই বাচ্চা নাকি ওর না। জোর করে নাকি এবরশন করিয়েছে। কি অদ্ভুত মেন্টালিটি ভাবতে পারিস?

আমি তখন আকাশ থেকে পড়েছি, বলে কি!

- মেয়ে মোটামুটি প্রিন্সেস ট্রিটমেন্টে বড় হয়েছে তবুও অনেক সহ্য করেছে। না পেরে ডিভোর্স দিয়েছে। ওর জেদের জন্য তো আর মেয়ে পড়াশোনা বন্ধ করবে না তাই না?
-পড়াশোনা বন্ধ করতে বলেছিল নাকি! আমি অবাক।
-হ্যাঁ ওর মতে মেয়েদের বেশি পড়াশোনার প্রয়োজন নেই কারণ মেয়েদের চাকরি-বাকরির দরকার নেই। এই নাহিদকে আমি চিনি না রে।

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, আমিও চিনি না।

বছর দুয়েক পরে এক শপিং সেন্টারে হঠাৎ করে নাহিদের সাথে দেখা হয়ে গেল।

-কিরে মৃত্তিকা কেমন আছিস?

আমি ভালো আছি বলতেই যাব এমন সময় ও আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই বললো,
-এই যে তোদের নতুন ভাবী, তেমন আয়োজনের বিয়ে না।গরিব ঘরের মেয়ে, দেখতে সুন্দরী আর বয়স মাত্র উনিশ। কোন ৩০-৩৫ বছরের মিড এজের মহিলা না। ও কেমন যেন উদভ্রান্তের মতো হাসতে লাগলো। আমি পাশের মেয়েটির দিকে তাকালাম। মেয়েটি যথেষ্ট সুন্দরী এবং অল্প বয়সী। বুঝতে পারলাম ডাক্তার প্রফেশনটা বেচেই এই মেয়েটি কে সে বিয়ে করেছে।

মাত্র কয়েকদিন পরেই জানতে পারলাম, ওর নামে সেই সুন্দরী অল্প বয়সী মেয়েটি নাকি ডিভোর্স কেস ফাইল করার সাথে সাথে নারী নির্যাতন, যৌতুক মামলা করেছে। এবং সুস্পষ্ট প্রমাণও দিয়েছে। নাহিদ ভেবেছিল হয়তো আগের মতো মান সম্মানের ভয়ে এই মেয়েটিও চুপচাপ থাকবে কিন্তু এই মেয়েটি উঠে এসেছে একেবারেই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে। এইভাবে থাকার চেয়ে কাবিনের ১০ লক্ষ টাকা ওর কাছে বেশি মূল্যবান, বেচারা বুঝতেই পারেনি। যাইহোক ডিভোর্স হলো সাথে নারী নির্যাতন আর যৌতুক মামলায় তিন বছরের জেল পর্যন্ত হলো।

আরো বছর পাঁচেক পর ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল সাথে আমার হাজব্যান্ড আর দুই বাচ্চাও ছিল আমিই আগবাড়িয়ে কথা বলেছিলাম।

-শোন নাহিদ আমার বয়স ৩৯, আমি একজন মিড এজের মহিলা। সাথে আমি একজন দক্ষ সাইকিয়াট্রিস্ট। তোর আসলে চিকিৎসা প্রয়োজন, আসিস ফ্রিতে দেখে দেব। আমি আমার হাজব্যান্ড রাজীবের হাত ধরে গটগট করে হেঁটে চলে এসেছিলাম।

-মৃত্তিকা, তুমি তোমার বন্ধুর সাথে এ ধরনের ব্যবহার কেন করলে! অবাক হয়ে রাজীব আমাকে প্রশ্ন করেছিল।

- সত্যিই ওর চিকিৎসা প্রয়োজন, বাদ দাও বলে আমি গাড়িতে উঠলাম।

আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম, সৃষ্টিকর্তা যা করেন খুব ভালোই করেন। সেই প্রথমে আমি যদি ওর পাগলামি দেখে বিন্দু পরিমান গলে যেতাম তাহলে আজকে আমি হতাম একজন ডিভোর্সী নারী অথবা সারা জীবন মার খেয়ে পড়ে থাকা নারী যার কোনটাই আমি হতে চাইনি কিংবা কোন মেয়ে চায় না। আসলে মানুষ মাত্রই খুবই রহস্যময় যে ছেলেটার সাথে আমি ৬-৭ বছর বন্ধুর মতো চলাফেরা করেছি তার মেন্টালিটি যে এরকম তার আভাস বিন্দু পরিমাণ আমি বা আমরা কেউ পাইনি।
 
Back
Top