ঐতিহাসিক দেশবন্ধু সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
422
Messages
6,701
Reaction score
4,366
Points
3,963
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
ঐতিহাসিক দেশবন্ধু সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট

(অন্তর্জাল হতে সংগৃহীত)



FB-IMG-1753499450129.jpg


৬৭ বছর পুরানো দেশবন্ধু সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট!!

সময়টা ৫০ এর দশকের শেষ দিক। শচী মোহন গোপ তখন রাস্তায় বিক্রি করতেন দুধ,দই আর মাঠা। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা করলেন নিজের রেস্তোরাঁ। নাম দেশবন্ধু সুইটমিট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। আইটেম হিসেবে এলো সকাল আর সন্ধ্যার জন্য পরোটা,লুচি। সঙ্গে হালুয়া,
লাবড়া আর ৩-৪ প্রকারের মিষ্টি।

দেশবন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ "১৮৭০-১৯২৫" তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর। তাদের জীবনদর্শন গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল শচী মোহনকে। আর তাই মতিঝিলে নিজের প্রতিষ্ঠা করা রেস্তোরাঁর নাম দেশবন্ধু দিয়েছিলেন।

সে সময় ইত্তেফাক পত্রিকার অফিস ছিল এর বিপরীতেই। সংবাদকর্মীরা নাশতা করতে আসতেন। সেখান থেকেই ছড়িয়ে গেল নাম।

একটা সময় ছিল যখন কবি,লেখক,শিল্পীরা এদিকে আসতেন,আড্ডা দিতেন। এই হোটেলে ফিল্মের লোকজনও আসতেন। তখন তো গুলিস্তানের এদিকেই ছিল শহর। পুরান ঢাকাও খুব জমজমাট। আর তার সঙ্গে মতিঝিলের এদিকটাও ৬০ এর দশক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল। এদিকে বাণিজ্যিক বিভিন্ন ভবনও ছিল। দোকানের বিপরীতে ইত্তেফাকের অফিস।

৬০-৭০ এর দশকে এখান থেকে বহুবার এফডিসিতে নাশতা গেছে। এখানকার সুজির হালুয়া,পরোটা আর ভাজির খ্যাতি ছিল পুরো ঢাকায়৷ এখনও আশপাশ তো বটে,বাইরে থেকেও লোকজন খেতে আসে। এই হোটেলের নাশতা রাজ্জাক,কবরী,শাবানাদেরও পছন্দের ছিল।

বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা আয়োজনে আশপাশের প্রতিষ্ঠান গুলো খাবার নিত এখান থেকে। রেস্তোরাঁয় পরোটা,
ভাজি (লাবড়া),হালুয়ার পাশাপাশি আছে ৪-৫ রকমের মিষ্টি। ছানা আমিত্তি_কালাই আমিত্তি_কালোজাম_
রসগোল্লা ও রাজভোগ। এ ছাড়া শিঙাড়া_নিমকি_
লাড্ডু_দই_টক-মিষ্টি মেশানো দুধের দই। দোকানের শুরু থেকেই আছে এটা। আর দুপুরেও খাবার হিসেবে ভাত_রুই মাছ_মুড়িঘণ্ট_মুরগি_খাসি এসব পাওয়া যায়। সেটাও অনেকদিন আগে। অর্থাৎ - শচী মোহন থাকতে থাকতেই চালু হয়েছিল। এখন দোকান তার ছেলে শ্যামল গোপের মালিকানায়।

দোকান শুরুর পর শচী মোহন গোপ মাঠা কিংবা দুধ রাখেননি। তবে রেখেছিলেন দই। সেই টক-মিষ্টি স্বাদের দইয়ের ওপরে সরের তেমন আস্তরণ নেই। দই নরম ও মিষ্টি পরিমিত। এক সময় এখানে চলচ্চিত্র ও সাহিত্য অঙ্গনের অনেকে আসতেন। এখন আর তেমন আসেন না। তাহলে কি বার্ধক্য ছুঁয়ে ফেলেছে দেশবন্ধুকে?

শহরের পরিবর্তন তো একটা ব্যাপার। তখন শহর ছিল গুলিস্তান-ওয়ারী-মতিঝিলের এদিকে। ৮০ এর দশক থেকে অন্যান্য জায়গায় শহর গড়ে উঠতে থাকে। ৯০ দশকের পর আরো পরিবর্তন ঘটেছে। তবে এখনো এখানে অন্যান্য এলাকা থেকে অনেক মানুষ আসে।
৯০ দশকেও তো এখান থেকে এফডিসিতে অনেকবার নাশতা গেছে।

এখন সবদিকে নতুন অনেক দোকান হয়েছে। আবার কবি-লেখকদের আড্ডার অন্য জায়গা তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া,খাবারের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। লুচি বা পরোটার সঙ্গে সবজি / লাবড়ার জায়গায় অনেকের ফাস্টফুড,বার্গার,ফ্রাই- এসব আইটেম পছন্দ। তবে দেশবন্ধুর নাশতা এখনো অনেক জনপ্রিয়।

৬৭ বছর বয়স হলেও দেশবন্ধু সুইটমিটকে তাই বৃদ্ধ বলা যায় না৷ কোলাহলমুখর তারুণ্যই ধরে রেখেছে রেস্তোরাঁটি এখনো।


সূত্র : The Daily Star বাংলা
 
Back
Top