Collected তাবিজ

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
457
Messages
7,320
Reaction score
5,740
Points
4,013
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
তাবিজ

মূল লেখকঃ সজীব তালুকদার






তাবিজ

মতিঝিল ব্রাঞ্চে আমি আর পলাশ পাশাপাশি ডেস্কে কাজ করতাম। দুজনেরই নতুন চাকরি। আমাদের দেয়াও হয়েছিল ডিপোজিট সেকশনে।একাউন্ট ওপেনিং দিয়েই আমাদের ব্যাংকার্স জীবন শুরু হয়েছিল বলা যায় । দুজনেই বরিশাইল্লা হলেও পলাশের পড়াশোনা মূলত ঢাকায় আর আমার বরিশালের বিএম কলেজে। দুজনের কিছু বিষয়ে মিল থাকলেও অমিলও ছিল অনেক। তবে সেগুলো আমাদের বন্ধুত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আমি যেখানে ঢাকায় সেটেল্ড হতে চাইতাম সেখানে পলাশ ঢাকা থেকে পালাতে চাইতো। ঢাকা থেকে মফস্বলে বদলি হওয়া খুব একটা কঠিন নয় কিন্তু সামনে আরো অনেকগুলো চাকরির পরীক্ষা থাকায় ও হয়তো সেভাবে চেষ্টা করত না। মনে মনে সুক্ষ্ম একটা ইচ্ছে পোষণ করতো মাত্র।

যাইহোক একাউন্ট খুলতে গিয়েই আমাদের পরিচয় হয় সৈয়দ আলী হামজার সাথে। পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক হলেও বিভিন্ন তাবিজ তদবিরের কাজ করে থাকেন। ঢাকায় তার অনেক ভক্ত আশেকান আছে কিন্তু এই শহরে তার কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। যদিও বিকাশে তিনি বেশিরভাগ টাকা নিয়ে থাকেন তারপরেও একটা গতানুগতিক ব্যাংক একাউন্ট থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন। মোটামুটি একটা হ্যান্ডসাম এমাউন্ট দিয়েই তিনি একটি সেভিংস একাউন্ট খুললেন। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস,এফডিআরের রেট সম্বন্ধেও জেনে নিলেন। সুদ সম্পর্কে ধর্মীয় দিক বিশ্লেষণ করে চমকপ্রদ কিছু তথ্যও দিলেন।তার বেশভূষা, প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে ধর্মীয় বিশ্লেষণ, আর্থিক সামর্থ্য আমাদের আশেকান না বানালেও তার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলল। ঘটনাচক্রে তিনিও বরিশাইল্লা হওয়ায় আমাদের কাস্টমার ব্যাংকার সম্পর্কের বাইরেও একটা সম্পর্ক তৈরি হতে লাগলো। মজার বিষয় হল ওই একাউন্টে শুধু দেশ থেকে নয় মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশ থেকে টাকা আসতে শুরু করল। তিনি এস্তেখারা করেন, রুকাইয়া করেন, সমস্যাগ্রস্ত মানুষের জন্য বিভিন্ন তাবিজ তদবিরও দিয়ে থাকেন। তার তদবিরে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু কাজ হয়। বুজুরকি হলে নিশ্চয়ই এত মানুষ এত জায়গা থেকে তাকে টাকা পাঠাতো না।

আমরা দুজনের কেউই খুব একটা ধার্মিক নই আবার পাড় নাস্তিকও নই।নিকট ভবিষ্যতে আমাদের ক্যারিয়ার আর বিয়ে শাদী করা ছাড়া কোন ফোকাসড বিষয়ও নেই। তারপরও আমাদের তদবিরের প্রয়োজন হল। আমাদের দুজনেরই সামনে প্রমোশন অথচ কেউই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা শেষ করতে পারছিলাম না।দুজনেই একটি সাবজেক্টের জন্য ফাস্ট পার্ট-এ আটকে আছি অথচ ওই সাবজেক্টেরই স্টুডেন্ট আমরা । অনার্স মাস্টার্সে ফেল করলাম না ফেল করতে লাগলাম ব্যাংকিং ডিপ্লোমা দিতে এসে তাও একবার না পাঁচবার। পড়ে, নকল করে, পাশের জনের খাতা দেখে কিছুতেই পাস করতে পারছিলাম না। এদিকে আমাদের ব্যাচমেটদের অনেকেরই দুই পার্ট কমপ্লিট। শেষ ভরসা হিসেবে আমরা হামজা হুজুরের সাথে যোগাযোগ করলাম। তিনি সব শুনে আমাদের তদবির দিলেন, পাশাপাশি কিছু দোয়াও শিখিয়ে দিলেন কোন হাদিয়া ছাড়াই। আলহামদুলিল্লাহ আমরা পরেরবারই পাশ করে ফেললাম । আনন্দের আতিশয্যে আমরা ডিপ্লোমা পাশের সম্মানী থেকে কিছু অংশ ওনার একাউন্টে জমা করে দিলাম। হামজা সাহেব স্নিগ্ধ হেসে বললেন, জাযাকাল্লাহু খাইরন(আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিক)।
এরপরের কিছুটা সময় বলা যায় হামজা হুজুরের। আমাদের আরো কিছু কলিগ ওনার সহবতে ডিপ্লোমা শেষ করে ফেলল। ম্যানেজার স্যার অনেকদিন ধরেই উনার স্ত্রীর বদলির চেষ্টা করছিলেন তার একটা ব্যবস্থা হয়ে যায়। ক্যাশ অফিসার শান্তনুর ব্যাংকের চাকরি একেবারেই পছন্দ ছিল না।তার স্বপ্ন বিসিএস ক্যাডার হওয়া, ফার্স্ট চয়েস ছিল এডমিন। চূড়ান্ত রেজাল্টে এডমিনে না হলেও এবার পরিবার পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার পেয়েছে সে। সাথে এও ঠিক করেছে হুজুর আসলে তাকে কিংফিশার হোটেলে হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি খাওয়ানো হবে । কিন্তু হুজুর আসতে আসতে আমি আর ম্যানেজার স্যার হেড অফিসে বদলি হয়ে যাই,শান্তনু চাকরি ছেড়ে দেয়। শুধু পলাশই কি করে যেন থেকে যায়।

এর কিছুদিন পর হুজুর নিজেই আমাদের ফোন দিয়ে উনার পরিচিত একটা রেস্টুরেন্ট আসতে বললেন। বেশ বড় এমাউন্টের একটা এফডিআর খুলবেন তিনি।নমিনি রাখবেন তিনজন - উনার তিন স্ত্রীকে। অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফরম আমরা সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম। উনি স্বাক্ষর, ছবি কাগজপত্রসহ সবই দিলেন শুধু তৃতীয় স্ত্রীরটা দিতে পারলেন না। তৃতীয় জনের সবেমাত্র আঠারো বছর হয়েছে। এখনো এনআইডি কার্ড করা হয়ে ওঠেনি। আপাতত বরিশাল গিয়ে তিনি নাগরিক সনদ আর ছবি পাঠিয়ে দিবেন। যেহেতু পলাশের ব্রাঞ্চে এফডিআর খোলা হবে তাই পলাশের ঠিকানায় তিনি ডাকে পাঠিয়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত হলো। ওই রেস্টুরেন্টে হুজুর নিয়মিত আসেন বলেই মনে হয়। আমাদের সঙ্গে কথা বলতে থাকায় ওনার আরও কিছু ভক্ত আশেকান পাশের টেবিলে অপেক্ষা করছিলেন। তাই আমরা আর বেশি দেরি করতে চাইলাম না। হুজুর আমাদের সুন্দর দুটি আঁতর উপহার দিলেন। এই আতর মাখলে নাকি স্ত্রীরা খুবই মহব্বত করে। কিন্তু আমাদের কারোরই স্ত্রী নাই এই বিষয়টা বেশ দুঃখ(!)করেই হুজুরকে বললাম। আলী হামজা হুজুর রসিক মানুষ। প্রথমেই তিনি আমাদের পছন্দ আছে কিনা জিজ্ঞেস করলেন। পলাশের ছিল আমার নেই। আর পলাশের মত অতি সুন্দরী মেয়েরাও আমার কল্পনাতে বসবাস করে না। ঢাকায় চাকরি করে, মোটামুটি দেখতে এরকম হলেই আমার চলবে। পলাশ তার হারানো প্রেমিকার ব্যাপারে ভীষণ রকম অবসেসড।খালাতো বোনের প্রতি সেই প্রেম অবশ্য একতরফা ছিল। সেই প্রেমিকার মতো অথবা তার চেয়েও সুন্দরী মেয়ে তার চাই। বউকে দিয়ে সে কোন চাকরি বাকরি করাবে না। সে রান্না করবে, অভিমান করবে, সেজেগুজে তার সাথে ঘুরতে বের হবে এরকম একটা মেয়ে তার চাওয়া। হুজুর আমাদের দুজনকেই দুটো তাবিজ দিলেন এবং তার গোপন ব্যবহারবিধিও বুঝিয়ে দিলেন।

আমার জীবনে এর পরের কয়েকটা মাস বেশ দ্রুত কেটে যায়। হেড অফিস থেকে আমাকে ঢাকার আরেকটি ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়। এই ট্রান্সফার অরডার আমি ইচ্ছা করেই করিয়েছি। যেহেতু নতুন চাকরি ব্রাঞ্চে না থাকলে ভালো করে কাজ শিখতে পারবো না। এই আগ্রহের কারণে নতুন ম্যানেজার স্যারও আমাকে বেশ পছন্দ করেন। অডিট অ্যাডভান্স সংক্রান্ত কাজের জন্য তিনি ছুটির দিনেও মাঝেমধ্যে আমাকে ডেকে নেন। আমিও খুশি মনে সাড়া দেই। এরকম কোন এক ছুটির দিনে স্যার তার এক রিলেটিভ এর বাসায় আমাকে নিয়ে যান। ভদ্রলোকের হার্ডওয়ারের বিজনেস।নিজের বাড়ির নিচেই দোকান।ভেবেছিলাম উনি হয়তো লোন নিতে চাচ্ছেন। তার মর্টগেজ প্রপার্টি দেখতেই এখানে আসা। কিন্তু ওনার ছোট মেয়ে যখন চা নিয়ে এলো, ব্যাংকিং বিষয়বস্তুহীন এটা সেটা নিয়ে কথা বলতে থাকলো তখন বুঝলাম অন্য কেস। বিব্রত বোধ করলেও যথাসম্ভব সেটা গোপন রাখার চেষ্টা করলাম। আমি এমনিতেই শুকনা মানুষ।পাতলা একটা টি-শার্ট পরে এসেছি, স্যান্ডেলটার অবস্থাও সুবিধার না। ওনাদের আতিথেয়তায় আহামরি কিছু না থাকলেও ভদ্রতার কমতি ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা ওনাদের শ্যামলা মেয়েটিকে কিছুতেই মন থেকে দূরে রাখতে পারলাম না। যাই-ইহোক, আমি বাস্তববাদী মানুষ পলাশের মত ভাবালুতাকে খুব বেশি প্রশ্রয় দেই না।

কয়েক সপ্তাহ পর ম্যানেজার স্যার নিজেই জানালেন ভদ্রলোকের তিন মেয়ের বড় দুই মেয়ে দেশের বাইরে থাকে। ছোট মেয়েটি গত বছর মাস্টার্স করেছে। আপাতত একটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে পড়ায় ।এই মেয়ের জন্য তারা জামাই নয় এমন একটি ছেলে চাচ্ছে যে তাদের কাছেই থাকবে। তারমানে ঘর জামাই, আমি বললাম। ম্যানেজার স্যার হেসে ফেললেন, তিনি বললেন বিষয়টা এভাবে দেখছো কেন? উনি বাড়িটা ওনার তিন মেয়ের নামে হেবা করে দিয়েছেন। তা না হলে ওনার ভাইয়ের ছেলেরা এই প্রোপারটির অংশীদার হবে। বলতে পারো এই মেয়েকে যে বিয়ে করবে সে শ্বশুরের জামাই না বউয়ের জামাই হিসেবে ঘরে থাকবে। তোমার আনইজি লাগলে বউকে না হয় ভাড়া দিও।
-অতো ভাড়া তো দিতে পারবো না। আমি মেসে থাকি ওই ভাড়াটা দিতে পারব।
-ওই ভাড়াটাই দিও।এখন তোমার গার্ডিয়ানের সাথে কথা বলে আমাকে ফাইনাল জানাও।
আমার বাবা মা নেই, বড় ভাই তার নিজের সংসার নিয়েই ব্যস্ত। বলা যায় আমার সিদ্ধান্তই এখানে শেষ কথা। তারপরেও বড় ভাই ভাবির সাথে কথা বলে শেষ পর্যন্ত আমি সম্মতি দিলাম।
আমার শ্বশুর তার উপরের ফ্লোরের একটি ফ্ল্যাট আমাদের জন্য ছেড়ে দিলেন।কিন্তু আমি ছোট হব কেন!আগের ভাড়াটিয়া যে ভাড়া দিত সেই টাকা আমি প্রতি মাসে আমার স্ত্রীর হাতে তুলে দেই।একদিক থেকে ভালই হয়েছে, আমি সারাদিন ব্যাংকে থাকি অন্যদিকে আমার স্ত্রীর স্কুল ছুটির পর তেমন কোন কাজ থাকে না। ওই সময়টা সে তার বাবা মায়ের সাথেই কাটায়। সংসার, বাজার, ছোটখাট দুর্ঘটনা কোন কিছু নিয়েই আমাকে খুব বেশি টেনশন নিতে হয় না। বলা যায় আমাদের টোনাটুনির সংসার বেশ ভালই চলছিল। সেই ভালোলাগাকে আরও রঙিন করতে আমার শাশুড়ি আমাদের কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসতে বললেন। আসা-যাওয়ার প্লেনের টিকিট তিনি আমাদের উপহার হিসেবে দিতে চান। আমি আর আমার স্ত্রী দুজনেই যেহেতু চাকরি করি তাই ছুটিটা সমন্বয় করেই নিতে হয়। সবকিছু ঠিক করে যখন আমি নভোএয়ারের কাউন্টারে টিকিট কাটতে ঢুকি তখনই পলাশের ফোন আসে।
আমার বিয়ের দিন পলাশ উপস্থিত থাকলেও খুব একটা কথা বলার সুযোগ হয়নি। এরপরেও যা কথা হয়েছে তা না বলার মত। আর ফোনে ওর কথার ভেতর এমন একটা টোন ছিল যা আমি উপেক্ষা করতে পারলাম না। টিকিট না কেটেই আমি ওর কথামতো সোবাহান বাগ চলে আসি। আমাদের প্রাক্তন সহকর্মী শান্তনু বি আই এম এ তে একটা ট্রেনিং এ এসেছে। ওর ওখানেই আমরা তিনজন একত্রিত হই। পলাশ মানিব্যাগ থেকে একটা ছবি বের করে বলে দেখেন হামজা হুজুরের তৃতীয় স্ত্রী। পাসপোর্ট সাইজের ছবিতে খুব বেশি বোঝা না গেলেও অনুমান করলাম মেয়েটি বেশ ভালই সুন্দরী যেমনটা পলাশ মনে মনে আশা করে। অবশ্য আমার মনের প্রচলিত ধারণা হলো হুজুরের বউয়েরা এমনিতেই সুন্দর হয়।কিন্তু আমার ধারণা ভুলশুদ্ধ যাই হোক না কেন পলাশ বিষয়টা নিয়ে বেশ উত্তেজিত। সেই হুজুরের পাঠানো তার স্ত্রীর নাগরিক সনদ আর তার নিজের সংগ্রহ করা ওই মেয়ের জন্ম সনদ আমাদের দেখতে বলে। ঠিকানা ছাড়া তাতে বয়স বা বাবা-মায়ের নামে কোন পার্থক্য নেই। আমি আর শান্তনু পরস্পর মুখ চাওয়াচাওয়ি করি। পলাশ জানায়, এই মেয়েই তার প্রথম প্রেম যে কিনা হুজুরের সাথে ইটিশ পিটিশ করে পালিয়েছে। সম্পর্কে সে তার আপন ছোট খালার মেয়ে। যদিও আত্মীয়-স্বজনের ভেতর বিয়ে অনেকে পছন্দ করেন না তবে ওদের ভেতর সেই সমস্যা ছিল না।ওর বড় বোনের বিয়েও মামাতো ভাইয়ের সাথে হয়েছে। খালু প্রবাসী হওয়ায় আত্মীয়-স্বজনের ভেতর বিয়ে দেয়াকেই খালা হয়তো নিরাপদ ভেবেছিলেন।আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ওর খালুর খুব কাছের মানুষ ছিলেন এই হামজা হুজুর।সেই সূত্রেই খালুর বাসায় তার আসা যাওয়া। ঘটনার পর খালু অবশ্য বন্ধুর নামে অপহরণ মামলা করেছিলেন। কিন্তু মেয়ে নিজের ইচ্ছায় পালিয়ে গেলে গার্ডিয়ানের আর কি-ই বা করার থাকে! আর তাছাড়া লোক লজ্জা, খালুর ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার মত বিষয়গুলিও ছিল। শান্তনু পড়ুয়া মানুষ, সে জানায় এই টাইপ ফ্রড লোকেরা মানুষ হিপনোটাইজড করার অদ্ভুত এক ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। দুর্বল মনের মানুষ হলে তো কথাই নেই।
এ পর্যায়ে পলাশ বলতে থাকে ওই হুজুরের সাথে তার খালাতো বোন আর থাকতে চায় না।সে তার ভুল বুঝতে পেরে এখন ফিরে আসতে চাচ্ছে।
-তো?(আমি আর শান্তনু দ্বিতীয়বার মুখ চাওয়াচাওয়ি করি)
আমি ওকে এখনো ভালবাসি। পলাশ দৃঢ়ভাবে জানায়।

পরের সময়টা আমার ধারণার চেয়েও বেশ নাটকীয়। পলাশ বরিশালের মানুষ। পড়াশোনা করেছে ঢাকায়।স্ব ইচ্ছায় সে ঢাকা থেকে বান্দরবানের লামা শাখায় বদলি হয়। হামজা সাহেব ঝামেলা করবেন ভেবেছিলাম।কিন্তু সেরকম কিছুই তিনি করলেন না। পাইপলাইনে হয়তো আরও বিশেষ কেউ আছে তার। পলাশের বাবা-মা মৃদু আপত্তি করলেও ছেলের ইচ্ছার কাছে হার মানলেন। আমরা আমাদের হানিমুন সিডিউল চেঞ্জ করলাম। এবার কক্সবাজার নয় বান্দরবন। ওদের দেখে ভালই লাগলো,দুজন দুজনকে যেন চোখে হারায়!

কিন্তু মনে একটা সূক্ষ্ম কৌতুহল থেকেই গেল। হুজুর ফ্রড হলেও তার তাবিজ কিন্তু ঠিকই কাজ করেছে।


সমাপ্ত
 
Back
Top