Own/Self জারজের জীবন

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
471
Messages
7,785
Reaction score
7,027
Points
4,113
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
জারজের জীবন

একটি দুঃখপাখি রচনা






- ১

আজ বৃহস্পতিবার। সহকর্মী খলিল দ্রুত কাজ শেষ করতে ব্যস্ত। আজকে সে বাড়িতে যাবে। সকালে আমি অফিসে ঢুকা মাত্রই বলেছে "রিয়েল ভাই আজকে বাড়ি যাবো, আপনি আপনার কাজগুলো একটু তাড়াতাড়ি শেষ করেন। আমাকে একটু গুলিস্তানে নামিয়ে দিলে উপকার হবে।" খলিল ভাই অফিস থেকে সরাসরি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে প্রায় সময়ই আমি আমার মোটরসাইকেলে করে উনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তাই বাড়ি যাওয়ার সময় তাকে এগিয়ে দিতে আমার বেশ ভালো লাগে। চলতি পথে দুজনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলি। অবশ্য বেশিরভাগ সময় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েই কথা হয়। আমার হাতে আজ আর তেমন কাজ নেই, তাই খলিল ভাইয়ের কিছু কাজ করে এগিয়ে দিয়েছি। খলিল ভাই চারটার ভিতরে বের হতে চেয়েছেন। জিএম নাজিবুল স্যারের কাছে সকালেই জানিয়ে রেখেছে যে আমরা দুজনে আজকে চারটার দিকে বেরিয়ে যাবো।

কি ব্যাপার খলিল ভাই, তিনটা তো বাজলো প্রায়, আর কতক্ষণ লাগবে কাজ শেষ হতে?

- আর বলেননা ভাই, আমার বাড়ি যাওয়ার দিনগুলোতেই এমডি স্যারের কাজের প্যারা বাড়ে। আপনি যখন ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন তখন একডি স্যার ফোন দিয়ে বললো কক্সবাজার প্রোজেক্টের ম্যান পাওয়ার বিলে ক্লায়েন্ট অতিরিক্ত কিছু বোনাস যোগ করতে বলেছে। শনিবারেই নাকি সাবমিট করতে হবে। আমি তো আবার শনিবার ছুটি নিয়েছি, তাই আজকেই এইটা শেষ করে যেতে হবে। তা নাহলে আমি শনিবারে ছুটি কাটাতে পারবোনা।

আরে ভাই তা সেকথা আগে বলেননি কেন! এক্সেল ফাইলটা আমাকে দেন আর রেশিওর মেইলটা ফরোয়ার্ড করেন। শেষের কিছু পেইজ আমি করে এগিয়ে দেই। আরও আগে বললে এতক্ষণে প্রায় শেষ হয়ে যেতে।

- সকাল থেকেই তো আমার অনেক কাজ করে দিয়েছেন। তাই আর আপনাকে প্যারা দিতে ইচ্ছা করলোনা।

কিযে বলেন না ভাই। সারা সপ্তাহ প্যারা দিতে মজা লাগে আর আজকে আপনার বাড়ি যাওয়ার দিন মজা নিচ্ছেন। এই কথা বলে আমি হেসে দেই। আমার সাথে হাসতে হাসতে খলিল ভাই বলেন

- নেন তাহলে আপনাকে ক্লায়েন্টের মেইল ফরোয়ার্ড করে দিচ্ছি, আর এক্সেল ফাইল সার্ভার থেকে নিয়ে নেন। আপনি শেষের দিক থেকে দশ পেইজ এ কাজ করেন।

আমি খলিল ভাইয়ের নির্দেশনা মতো কাজ শুরু করে দেই। হঠাৎ মোবাইলে সাইমন কল করে।

হ্যালো, কিরে কি খবর তোর? এই অসময়ে?

-তোরে ফোন করতে আবার সময়ের হিসাব করা লাগবে নাকি! লাত্থি দিয়ে সময় বের করে দিবো তোর। সন্ধ্যায় কোন কাজ আছে কিনা বল।

না, আজকে সন্ধ্যায় কোন কাজ নেই। কেন কোন দরকার আছে নাকি?

-হ্যা, একটা বিশেষ দরকার আছে। সিনেমা দেখতে ইচ্ছা করছে। স্টার সিনেপ্লেক্সে সন্ধ্যা ছয়টার শোতে সিনেমা দেখবো। মুসাব, রনন আর রানা যাবে বলেছে, রুপনের অফিস তো ছুটি হবে আটটায়, তাই ও যেতে পারবেনা। এখন তুই যাবি কিনা বল। বহু বছর একসাথে সিনেমা দেখা হয়না।

সেতো যাওয়াই যায়। তবে আমি তো অফিস সহকর্মী খলিল ভাইকে গুলিস্তানে এগিয়ে দিতে যাবো। তবে উনাকে নামিয়ে দিয়ে আশাকরি ছয়টার আগেই পৌঁছে যাবো। তোরা তাহলে তোদের মতো করে চলে যাস। আমি নিজের মতো ছয়টার আগেই সিনেপ্লেক্সে চলে আসবো ইনশাআল্লাহ।

ঠিক আছে, আমরা তাহলে তোর টিকেট কেটে রাখবো।

ঠিক আছে। এখন হাতে কিছু কাজ আছে সেগুলো শেষ করি। আল্লাহ হাফিজ।

আল্লাহ হাফেজ।

(চলবে)
 
Back
Top