Collected ব্যাপার না

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
471
Messages
7,785
Reaction score
7,027
Points
4,113
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
ব্যাপার না

ফেসবুক হতে সংগৃহীত







ছয় সাবজেক্টে ফেল করার পর স্যার জিজ্ঞাসা করলো- কি রে শ/য়তান এর পরও কি তোর বাপের আক্কেল হয়না? তোর পেছনে খালি খালি পয়সা নষ্ট করে। তুই আমার গ/রুগুলাকে ঘাস খাওয়া এর চেয়ে। বেতন পাবি।
মোফাজ্জল ভরা ক্লাসে, যে মেয়েকে সে মনে প্রাণে ভালবাসতো, যার সামনে হিরোইজম দেখাতো এমনকি তার সামনেই হো হো করে হেসে জবাব দিলো- "ব্যাপার না স্যার। এইবার ছয় সাবজেক্টে, আগামীবার সাত সাবজেক্টে ফেল করবো ইনশা-আল্লাহ্‌।

স্যার ধমক দিলো- বের হ শ/য়তান ক্লাস থেকে।
মোফাজ্জল হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার আগে বলে গেল- "স্যার ব্যাপার না"।

আমরা মোফাজ্জলের ব্যাপার বুঝিনা। সব কিছুতেই সে হেয়ালি করে 'ব্যাপার না' বলে কোন দুঃখে। সে কি মানুষ হবে না? মোফাজ্জল পড়াশোনা না শিখলেও সে এখন ইয়া বড় সংসার চালায়। গৃহস্থালি করে। হাটে মাঠে তার চলাচল। কখনো দেখি কাদাতে উপুর হয়ে ধান লাগাতে কখনো দেখি সাইকেলে চড়ে বাজারে যেতে। সংসারে টুকটাক অভাব আছে বৈকি । সে তার ভাইয়ের ছেলে, বোনের মেয়েকে মানুষ করছে। নিজের অল্প জমি থাকলেও কিছু জমি আবার ছেড়ে দিয়েছে স্কুলের নামে। অথচ কত ধনী আশেপাশে। তাদের সময় হয়না দুস্থ আত্মীয়দের খবর নেয়ার।

মামুন প্রেমিকার দেখা না পেয়ে 'ভ্যা' 'ভ্যা' করে কেঁদে ফেলল। হয়তো ছ্যাকা খেয়েছে। বললাম, কী রে এতো কষ্টে নাদিয়ার সাথে প্রেম হলো আর এইভাবে ছ্যাকা খেলি? বলল- দোস্ত, অনেকদিন দেখা নাই। 'কইলজা'টা পুড়ে রে। 'দীর্ঘ' দু'দিন দেখিনা তারে...

'দীর্ঘ দুইদিন' না দেখেই যে প্রেমিক মামুন কাঁদে এভাবে তাকে এসে নাদিয়া হর হর করে বলে গেল- আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তোমাকে বিয়ে করা সম্ভব না। তুমিতো বেকার।
মামুনকে বললাম, দোস্ত এখন বাঁচবি কী করে? সে মুখে অট্টহাসি এনে বলল- আরে ব্যাপার না।

এই 'ব্যাপার না' বলা মামুন আজো বিয়ে করেনি। চাকরি বাকরি ঠিকই করে। 'ব্যাপার না'র ভেতর কত কষ্ট লুকিয়ে আছে কে জানে!

এলাকায় ছেলেপেলে বায়না ধরলো। পিকনিক করবে। ছেলে পেলেতো সব গরীব বাবার ঘরের। ধনীদের দুয়ারে গেল। তারা তাদের ছেলেদেরকে তো গরীবদের পিকনিকে আসতে দিলোই না, সাহায্য সহযোগিতাতো করলোই না উল্টো বলে দিলো গরিবের ছাও এতো আনন্দ কই পাও, দূর হও।

অথচ আমাদের সিদ্দিক ব্যাপারী, গরীব বেচারা তার একটা আস্তো খাসী ছা/গলটা দিয়ে বলল- যাও তোমরা পিকনিক করো। মাংসে ঝাল বেশি মাইরো। বললাম, চাচা তাই বলে আপনি এতো বড় একটা ছা/গল দিয়ে দিলেন?
সিদ্দিক চাচা মুখে হাসি নিয়ে বললেন, আরে ব্যাপার না। তারা পোলাপান মানুষ খাইবো। এই আর এতো কী!

ঢাকার শ্যামলী পেরিয়ে আসাদ গেট বরাবর এক ওভারব্রিজের নিচে দেখলাম এক আধা পা/গল শুয়ে আছে। রোজই দেখি। তার পাশে বিড়াল, কু/কুর শুয়ে থাকে। এক সাথে খায় দায়। পোষা আর কী। এগুলো দিয়েতো আর ইনকাম হয় না। বললাম, নিজে পান না এদেরকে খাওয়ান যে? বলল - ব্যাপার না।

আমাদের প্রতিবেশী জয়নালের দুই বিঘা জমি নিয়ে নিল ফাঁকি দিয়ে তার শিক্ষিত বড় ভাই।

বললাম, কেসকাচারি করেন।
হেসে বললেন, ব্যাপার না। নিক গা। কপালতো নিতে পারবো না।

এক পিতাকে বললাম, ছেলেটা আপনার দেখাশোনা করে না। কষ্ট হয়?

বললেন, না দেখলে নাই। ব্যাপার না।

আমাদের জমশেদ। সারাদিন এর ওর উপকার করে বেড়ায়। নিজেই একবার অভাবে পড়লো।
বললাম, কী লাভ হইলো। কেউতো আসলো না।

শুয়ে থেকে মহাসুখি রাজার মতো বলল, কোনো ব্যাপার না। আমি কি আটকে থাকবো?

আজকের সমাজ, আজেকের বিশ্ব কেন এখনো ঠিক আছে ? এইসব 'ব্যাপার না' টাইপের মানুষদের জন্যই বুঝি।
নইলে সোবহান খালুর কী এতো দায় পড়েছে রোজ হাটবার এলে রাস্তাঘাট পরিস্কার করার? তাও কিনা বিনে পয়সায়? আমরা বলি - ও খালু, তুমি নিজেই খাইতে পাও না। এই টাইম ফাও ফাও মানুষের সুবিধার জন্য রাস্তা ঝাড়ু দাও ক্যান রোজ? মানুষের সুবিধা করাই তার কাজ। হেসে উত্তর দেন- "আরে ব্যাপার না"।

সেদিন সড়কে দেখলাম, বেশ গন্ডগোল। জসিম ভাই আগাগোড়াই এমন। অন্যের ফ্যাসাদ মিটিয়ে নিজের ঘাড়ে বদনাম লিখিয়ে নেন।

সবাইকে হাতজোড় করে বললেন, তোরা গন্ডগোল থামা। অশান্তি জিনিসটা খুব খারাপ। নিজেদের মধ্যে বিবাদ করতে নেই।

একজন বলল, তাইলে তোর যখন এতই দরদ জরিমানার টাকা তুই দে।

জসিম ভাই পড়লেন বিপদে। নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ান। শেষে তিনি নিজেই জরিমানা শোধ করে বললেন, ব্যাপার না। তাও তোরা শান্তিতে থাক৷

"ব্যাপার না" টাইপের সমাজ চাই আমরা। যারা নিজের চাওয়াকে তুচ্ছ করে অন্যকে তুলে ধরবে আগে আর বলবে "আরে ব্যাপার না"।

এমন মানুষ চারপাশে অনেক আছে। ব্যাপার না টাইপের মানুষগুলোই আমাদের ভালো থাকার ভরসা।

সমাপ্ত
 
Back
Top