- Joined
- Dec 22, 2024
- Threads
- 411
- Messages
- 5,981
- Reaction score
- 2,699
- Points
- 3,913
- Age
- 40
- Location
- Dhaka, Bangladesh
- Gender
- Male
কোহিনূর হীরার ইতিহাস
(অন্তর্জাল হতে সংগৃহীত)
(অন্তর্জাল হতে সংগৃহীত)
কোহিনুর হীরা!
বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ও বিখ্যাত হীরা।
কোহিনুরের বাংলা অর্থ "আলোর পাহাড়"।
এটি প্রায় ৫০০০ বছরের পুরনো ইতিহাস সমৃদ্ধ।
বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ ও শাসকের হাত ঘুরে চুরির মাধ্যমে বর্তমানে ব্রিটিশ রাজপরিবারের দখলে রয়েছে।
১০৫.৬ ক্যারেটের এই হীরার ইতিহাস বহু আগের।
নানা ঘটনা জড়িত রয়েছে এর সঙ্গে।
কারো মতে, এই হীরার বয়স পাঁচ হাজার বছর। কারো মতে, কর্নাটকের খনি থেকে কেউবা বলে গোয়ালিয়রের খনি থেকে এসেছে কোহিনূর।
হিন্দু মিথলজিতে আছে এই হীরার কথা। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের হাতেও এসেছিল এই হীরাটা এরকম শোনা যায়। কিন্তু শক্ত কোনো ভিত্তি নেই এই কথাগুলোর।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৩০৬ খ্রিস্টাব্দে মালওয়ার শাসক কাকাতিয়া সাম্রাজ্যের শাসকের হাতে তুলে দেন কোহিনূর।
কাকাতিয়া সাম্রাজ্যের হাত থেকে এই হীরা আসে দিল্লির পাগলা সুলতান বলে খ্যাত মুহম্মদ বিন তুঘলকের হাতে সম্ভবত ১৩২৩ খ্রিস্টাব্দে।
পরে লোদী সাম্রাজ্যের শাসকরা এটার মালিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন।
সম্রাট বাবরের জীবনী বাবরনামায় পাওয়া তথ্য মতে, গোয়ালিয়রের সেই নাম না জানা রাজপরিবারের হাত থেকে তারা কোহিনূর হীরাটি পান। প্রসঙ্গত সেই রাজপরিবার আর ইব্রাহিম লোদি একসঙ্গে লড়েছিলেন পানিপথের প্রথম যুদ্ধে।
সম্রাট বাবরের হাত ধরে সেই হীরা আসে সম্রাট হুমায়ুনের হাতে। ইতিহাসবিদরা বাবরনামাকে শক্তিশালী রেফারেন্স হিসেবে গণ্য করেন।
কোহিনূরের হাতবদল
সম্রাট হুমায়ুন রাজ্যহারা। আশ্রয় নিয়েছেন পারস্যের অধিপতি শাহ তামাস্পের কাছে। কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে কিংবা উপহার বিনিময়ের রেওয়াজ হিসেবে পারস্যের সম্রাটের হাতে তুলে দেন এই মহামূল্যবান হীরাটি। পরবর্তীতে পারস্যের শাহর সহযোগিতায় দিল্লির মনসদ ফিরে পান হুমায়ুন। কিন্তু মুঘল সম্রাটদের হাতছাড়া হয়ে যায় কোহিনূর।
সম্রাট আকবর দ্য গ্রেট এবং তার পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাম্রাজ্যের সময় এই হীরা তাদের কাছে ছিল না।
ফিরে আসে মুঘলদের কাছে
পারস্যের শাহ আহমেদ নগরের শাসক বুরহান নিজাম শাহকে উপহার হিসেবে দেন কোহিনূর। মূলত নিজাম শাহ শিয়া ছিলেন বলেই এই উপহার দেওয়া।
প্রায় ১০৯ বছর এই হীরা ছিল আহমেদ নগরের নিজাম শাহ এবং গোলকু-ার কুতুব শাহদের কাছে।
পরে সুলতান আবদুল্লা কুতুব শাহের প্রধানমন্ত্রী মির জুমলা এই হীরা সম্রাট শাহজাহানের হাতে তুলে দেন। শাহজাহান এই হীরাটাকে বসান তার বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসনে।
সম্রাট শাহজাহানের পর সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছে ছিল এই হীরা। এই সময় কোহিনূরের স্থান ছিল মুঘল কোষাগারে। পরে মুহম্মদ শাহ রঙ্গিলার কাছে ছিল এই হীরা।
আবার হাতছাড়া
পারস্যের নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করে লুট করে নেন ময়ূর সিংহাসনসহ এই কোহিনূর হীরা। কিন্তু বেশি দিন ভাগ্যে সইল না তার। আততায়ীদের হাতে খুন হয়ে যান নাদির শাহ। হীরা চলে যায় নাদির শাহর আফগান জেনারেল আহমেদ শাহ দুররানীর কাছে।
নাদির শাহর লাশ দেখার সময় কায়দা করে তার সিলটা হাত করেন দুররানী এবং সেই সূত্রে মালিক হন কোহিনূরের।
তার মৃত্যুর পর হীরা আসে তার সন্তান তিমুর শাহর কাছে। তিমুরের কাছ থেকে জামান শাহর হাতে আসে। সেখান থেকে সুজা উল মূলকের কাছে। তিমুর শাহ তার সৎ ভাই মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়ে কাশ্মীরের গভর্নর আতা মুহাম্মদ খানের কাছে বন্দি হন ১৮১১ সালে।
কিন্তু পাঞ্জাবের শিখ রাজা মহারাজ রঞ্জিত সিং সুজাকে উদ্ধার করেন এবং তাকে পরিবার সমেত লাহোরে পাঠিয়ে দেন। বদলে সুজা উল মূলক ১৮১৩ সালে রঞ্জিত সিংয়ের হাতে তুলে দেন কোহিনূর হীরা।
পাঞ্জাব থেকে ইংরেজদের হাতে
রঞ্জিত সিং মারা গেলে হীরার মালিক হয় তার ১১ বছরের ছেলে মহারাজ দিলীপ। কিন্তু ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশরা দখল করে নেয় পাঞ্জাব আর বলা চলে দিলীপের হাত থেকে কেড়ে নেয় কোহিনূর হীরাটি।
এইভাবে এই উপমহাদেশের কাছ হতে হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের অন্যতম মহামূল্যবান সম্পদটি।
লর্ড ডালহৌসি ১৮৫০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষ থেকে মহারানী ভিক্টোরিয়ার হাতে তুলে দেন হীরাটি।
এই আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন করার জন্য তারা দিলীপকে নিয়ে যান লন্ডনে।
অতঃপর কোহিনূর শোভা পায় রানীর মুকুটে। উপমহাদেশের এক সময়ের অহংকার সেই থেকে রয়েছে ব্রিটেনেই।