Collected জীবন সায়াহ্নে মানুষের পাঁচটি অনুশোচনা

dukhopakhidukhopakhi is verified member.

Special Member
Registered
Community Member
1K Post
Joined
Dec 22, 2024
Threads
419
Messages
6,332
Reaction score
3,354
Points
3,963
Age
41
Location
Dhaka, Bangladesh
Gender
Male
জীবন সায়াহ্নে মানুষের পাঁচটি অনুশোচনা

(অন্তর্জাল হতে সংগৃহীত)







আচ্ছা, কখনো কি মনে ভাবনা জেগেছে-পাকা তরমুজের ভিতরটা রুপালি কিংবা গোলাপি না হয়ে লাল হয় কেন?
অনেকেই জানেনা। আমিও না। না জানলেও কোনো ক্ষতি নেই। সব কিছু জানতে হবে-এমন কোনো কথাও নেই।

তবে, জীবনের মর্মার্থ কি- এটা না জানলে জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে দারুণ এক অনুশোচনা হবে।

ব্রনি ও্যয়ার "হসপিস কেয়ারের" একজন সেবিকা । হাসপাতালে যাদের আর কোনো চিকিৎসা নেই। তারাই এখানে থাকে। ব্রনির মনে ভাবনা আসে। অন্তিম যাত্রায় চলে যাওয়া এই সব সাধারণ মানুষের জীবনের অনুশোচনা কি?

মৃত্যুগামী প্রায় এক হাজার মানুষের শেষ কথা গুলো বা তাদের অনুশোচনা তিনি তাঁর একটা ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন। এর কয়েকটি পাতা ব্লগ পোস্টে প্রকাশ করলে আট মিলিয়ন পাঠক তার লেখাটি পড়ে। এরপর, প্রকাশিত হয় তার সাড়া জাগানো বইঃ "দ্য টপ ফাইভ রিগ্রেটস অব দ্য ডায়িং"। যে অনুশোচনা বুকে নিয়ে মানুষ অন্তিম যাত্রায় চলে যায়- কি তাদের অনুশোচনা।

🔷
প্রথম অনুশোচনা হলোঃ
নিজের প্রতি শতভাগ সত্য হওয়ার সাহস অর্জন করতে না পারা। মায়া আর মায়া- দুটো আলাদা জিনিস। এক মায়া হলো মমতা। আরেক মায়া হলো -আলেয়া। বৈশ্বয়িক মায়ায় জড়িয়ে পড়ে ঐশ্বরিক মায়াটা ভুলে যাওয়া।

🔷
দ্বিতীয় অনুশোচনাঃ
প্রিয় জনদের পাশে সময় কাটাতে না পারা। একজন মানুষ কর্মক্ষেত্রে কলিগদের সাথে যত সময় কাটায়। আপনজনদের সাথে সেই পরিমান সময় কাটাতে পারেনা। জীবিকার প্রয়োজন-তার জীবনের প্রয়োজনকে হার মানায়।

🔷
তৃতীয় অনুশোচনাঃ
অর্থ আয় করা আর জীবনটাকে অর্থময় করা যে এক কথা না। সেটা অনুধাবন করতে না পারা। আর্থিক উন্নয়ন করতে গিয়ে আত্মিক উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা।

🔷
চতুর্থ অনুশোচনাঃ
কে ভালো বলবে কিংবা কে মন্দ বলবে এটার মাঝে নিজেকে বন্দি করে ফেলা। নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে না পারা।

🔷
পঞ্চম অনুশোচনাঃ
না পাওয়ার জন্য শুধু হাহাকার করে যাওয়া। অন্য জীবনের সাথে নিজের জীবনকে তুলনা করা। অন্যের পাল্লায় সব সময় নিজেকে মাপা।

কল্পনা করুন, বাঁচার জন্য আপনার কাছে মাত্র চব্বিশ ঘন্টা সময় আছে। এই সময়ে আপনি কি করবেন?
অন্যের সাথে তুলনা, অন্যের সমালোচনা, না পাওয়ার বণ্চনা, খ্যাতির অন্বেষা - বিত্তের বাসনা। না, এর কোনোটাই না। মৃতপ্রায় একজন মানুষও অনুশোচনা করেনি - কেন তার ব্যাংকে আরো বেশি টাকা নেই । কেন সে আরো বেশি কাজ করেনি। কেন সে আরো বেশি বিত্তের মালিক হয়নি।
তবে, বিত্তবান হওয়াটা কি অপরাধ?

না , অবশ্যই না।
ধনী হওয়া অপরাধ না।

জীবনের নানা প্রয়োজনে ধনের প্রয়োজন আছে। ধনীর ধন যদি না থাকতো তবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটিও হতোনা।
ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও হতোনা। ধনটা অপরাধ না। অপরাধ হলো- ধনবান হওয়ার পথটা। এটা সুপথ না কুপথ। অর্থই অনর্থের মূল। কথাটাও ঠিক না। অর্থ মসজিদেও যায় , মন্দিরেও যায়। বাজারেও যায়। মাজারেও যায়। দেবালয়েও যায়। পতিতালয়েও যায়। তবে, অর্থ নিজে এসব জায়গায় যায়না। তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সে তো বাহন মাত্র। সেতো চালক না।

কাজও খারাপ না। কাজ মানুষকে চলমান রাখে। তবে, কাজের পিছনে ছুটতে গিয়ে জীবনটা নিঃশেষ করে ফেলাটাই খারাপ।
আমরা কাজের পিছনে ছুটি। ছুটতে ছুটতে ছোট ছোট জিনিসের আনন্দ ভুলে যাই।
অর্থের পিছনে ছুটি। সুখের অর্থটা ভুলে যাই।
ফেইমের পিছনে ছুটি। ফেইথটা ভুলে যাই।

পারফেকশনের পিছনে ছুটি। কমপেশান আর ইফেকশানটা ভুলে যাই।
সামাজিক কানেকশানের পিছনে ছুটি। রক্তের কানেকশানটাই ভুলে যাই।
কি এক গভীর পার্থক্য !! এই পার্থক্যটা কি অনুভব করা যায়???

এই পার্থক্য হৃদয়ঙ্গম করতে না পারলে জীবনের কদর কেউ করতে পারেনা। অর্থ, খ্যাতি, পদবী, বিত্তবানের কদর যেভাবে আমরা করি- নিজের জীবনের কদর আমরা সেভাবে করিনা। তাই, একেবারে অন্তিম মুহুর্ত না আসা পর্যন্ত জীবনের আসল মর্মার্থও বুঝতে পারিনা। আর এটা বুঝতে না পারাটাই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনা।
 
Back
Top