- Joined
- Dec 22, 2024
- Threads
- 429
- Messages
- 6,770
- Reaction score
- 4,537
- Points
- 3,963
- Age
- 41
- Location
- Dhaka, Bangladesh
- Gender
- Male
একজন "উত্তম" ভক্ত
(অন্তর্জাল হতে সংগৃহীত)
(অন্তর্জাল হতে সংগৃহীত)
সন্দেহের কারণ ছিল তাই বাবা মাকে সন্দেহ করতো। ভেজানো দরজার ফাঁক গলে আসতো চাপা গলার তরজা, আমরা ভাইবোনেরা ভয়ে তাকাতাম এ ওর দিকে। আসলে বিয়ের আগে মায়ের একটা সম্পর্ক ছিল, সে কথা জানতে পেরে যান বাবা। সে সময়ে দাঁড়িয়েও যথেষ্ট উদারমনস্ক মানুষ ছিলেন তাই এ নিয়ে তার কোন অভিযোগ ছিল না। সমস্যা হলো, বিয়ের পরে এমনকি আমরা দু'ভাইবোন হয়ে যাওয়ার পরেও সেই ভদ্রলোক মাকে চিঠি লিখতেন। স্বাভাবিকভাবেই এটা মেনে নেওয়া বাবার পক্ষে সম্ভব ছিল না। বাগবিতণ্ডা প্রবল হতো তার কারণ মায়ের যুক্তি ছিল - ''সে তো উজিয়ে বাড়ি আসে না, আমিও সাক্ষাতে যাইনে কখনও, স্বামী সংসার ছেলেমেয়ে অবহেলা করি না, তাইলে এতো রাগ কিসের..!" সব চিঠি আগলে অ্যালুমিনিয়ামের বাক্সে রাখতো মা, চাবি থাকতো আঁচলে।
বাবা দু'একবার সুযোগ বুঝে বাক্স হাতানোর চেষ্টা করলে, ধরা পড়েছেন হাতেনাতে। অশান্তি হয়েছে তুমুল। কে চিঠি লেখে আর কীভাবে যে সে চিঠি মায়ের হাতে পৌঁছয় তা আমাদের কাছেও ছিল রহস্য। ডাকে তো চিঠি আসতো না..! তবে কী একান্নবর্তী পরিবারে সর্ষের মধ্যে ভূত..!! হেঁসেল সামলে দুপুরে খাওয়ার পাট চুকিয়ে পাক্কা একঘণ্টা শোওয়ার ঘরের দরজা ভেজিয়ে দিত মা। সে সময় তাকে বিরক্ত করার অনুমতি ছিল না কারো। বাবা বাড়িতে থাকলে দরজার বাইরে পায়চারি করতেন আর ঘনঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন। একদিন থাকতে না পেরে দরজা ঠেলে ঢুকতেই, একতাড়া চিঠি ততক্ষণাৎ বাক্সে ঢুকিয়ে বাক্সসমেত বারোদিনের জন্য বাপের বাড়ি রওনা দিয়েছিল মা। বাবা আর পারছিলেন না, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ইদানিং শখের গোয়েন্দাদের চেম্বারে যাতায়াত শুরু করেন।
সেদিন সকাল থেকেই মা বড় চুপচাপ। মুখ চোখ থমথমে। সারাদিনে রা করল না কারো সাথে। দুপুরের খাওয়ার পাট চুকলেও নিজে দাঁতে কাটলো না কিচ্ছুটি। রোজকার মতো দরজা ভেজিয়ে সেই যে ঢুকলো ঘরে, সন্ধে গড়িয়ে গেল। শেষমেশ বাবার সঙ্গে আমরা দু'ভাইবোন ঢুকলুম ঘরে। একটা খবরের কাগজ আঁকড়ে আলনার কাছে বসে ফুঁপিয়ে কাঁদছে মা।
আমাদের দেখে বিড়বিড় করে বলে উঠলো - "চলে গেলো..!"
বিছানার ওপর খোলা বাক্স। ছড়ানো ছিটোনো একতাড়া ভালবাসার চিঠি। কোনটা মা লিখেছে, কোনটা উত্তমকুমার..! হাতের লেখা একজনেরই..!!